Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শনিবার   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   ফাল্গুন ২ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৫৯, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপিকে শ্রম মন্ত্রণালয়ে দেখতে চান চা-শ্রমিকরা

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্যকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান দেশের বৃহত্তর চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী। এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিক প্রতিনিধি, সংগঠক ও সাধারণ শ্রমিকরা।

বাংলাদেশে বর্তমানে বড় ও ফাঁড়ি বাগান মিলিয়ে প্রায় ২৪১টি চা-বাগান রয়েছে। এসব বাগানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মরত চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। দেশের চা-শিল্পে তাঁদের অবদান দীর্ঘদিনের; তবে মজুরি, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়টি এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ চা উৎপাদন এলাকা। এই অঞ্চলের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে চা-শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম। দীর্ঘদিন ধরেই ন্যায্য মজুরি, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছেন তারা। ফলে এই অঞ্চলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সরাসরি অভিজ্ঞ ও অবগত এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপি যদি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান, তবে চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে অবহিত একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ হলে শ্রমিকবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে।

চা-শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর পুনর্বিবেচনা, আবাসন সংকট সমাধান, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে হলে শ্রমিক-অধ্যুষিত এলাকার একজন প্রতিনিধিকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

সাধারণ শ্রমিকদের ভাষ্য, “আমাদের কষ্ট-দুঃখ, অধিকার ও বঞ্চনার ইতিহাস সবচেয়ে ভালো জানেন আমাদের এলাকার জনপ্রতিনিধি। তাই তাঁকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখতে চাই।”

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, চা-শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্যকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলে তা হবে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী সিদ্ধান্ত, যা সারাদেশের শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।

স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকলে শ্রমসংক্রান্ত আইন, মজুরি কাঠামো ও কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও ফলপ্রসূ হতে পারে এমনটাই শ্রমিকদের ধারণা। দেশের বৃহত্তর চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়