ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৬ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ৩ ১৪৩৩

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

লাউয়াছড়ার বংশি বাউল মদিনার মৃ`ত্যু`তে শোকের ছায়া

বংশি বাউল মদিনা। ছবি: সংগৃহীত

বংশি বাউল মদিনা। ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া ইকোপার্কের পরিচিত মুখ বংশি বাউল মদিনা (৭০) আর নেই। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার ভেড়াছড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুর আগের দিনই পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উত্তর বালিগাঁওসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। নিজস্ব ঢঙে বাঁশি বাজিয়ে গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন এবং শেষ সময় পর্যন্ত মানুষকে বিনোদন দিয়ে গেছেন।

বংশি বাউল মদিনা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক পরিচিত নাম ছিলেন। বাঁশি বাজিয়ে গান পরিবেশন, ছোটখাটো সার্কাস প্রদর্শন, মাইকিংসহ নানা মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দিতেন তিনি। একটি কয়েন দিয়ে একাধিক কয়েন তৈরি করার তার অভিনব ম্যাজিক বিশেষভাবে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল।

জীবিকার তাগিদে তিনি কখনো আইসক্রিম, বাদাম ও আচারসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। জীবনের প্রয়োজনে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন পর্যটন এলাকায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, হামহাম জলপ্রপাত এবং ক্যামেলিয়া লেক। এসব স্থানে গান শোনানো ও ছোটখাটো পণ্য বিক্রির মাধ্যমে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

এলাকার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত হাসিখুশি, প্রাণবন্ত ও সাদা মনের মানুষ। তাকে দেখলেই মানুষ বলত, “মদিনা ভাই, বাঁশি বাজিয়ে গান শোনান” কিংবা “একটা সার্কাস দেখান।” তিনি কখনো কাউকে নিরাশ করতেন না; বরং হাসিমুখে সবার অনুরোধ রাখতেন।

তার মৃত্যুতে কমলগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি ছিলেন একজন নিরহংকার ও বিনোদনপ্রিয় মানুষ, যার উপস্থিতি সব সময় পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলত।

পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি এলাকাবাসী তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করেছেন, যেন তিনি জান্নাতুল ফেরদৌস লাভ করেন।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়