ডেস্ক নিউজ
সিলেটে বঙ্গবন্ধুর নামে-বেনামে সংগঠন, বাড়ছে অনুপ্রবেশ
সিলেটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করে নামে-বেনামে একাধিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। আর এসব সংগঠন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনে বাড়ছে অনুপ্রবেশ। এতে একদিকে যেমন দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর নাম বিক্রি করে নানা সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে কিছু লোক।
তবে সিলেট আওয়ামী লীগ বলছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংযোগী সংগঠন ছাড়া আর কাউকেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হয় না। আর যারা বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে নানা সংগঠন করছেন তাদের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটি নিয়ে দলের বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা। খবর: সিলেট ভয়েস ।
জানা গেছে, সিলেটের বিভিন্ন নেতাদের নামে একাধিক গ্রুপ-উপগ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপ বেশির ভাগই পরিচালনা করেন ছাত্রলীগের পদ-প্রত্যাশীরা। আর দীর্ঘদিন সিলেটে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় বলয় ধরে রাখতে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে তৈরি সংগঠনগুলোকে কর্মীদের পদ-পদবী দেয়া হচ্ছে। এটি কর্মীদেরকে বলয়ে রাখতে একটি ‘কৌশল মাত্র’ বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের একাধিক সিনিয়র নেতা।
ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন থেকে ছাত্রলীগে কমিটি না থাকায় নিজ-নিজ অনুসারীদের ধরে রাকা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এজন্য বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নামের অংশ নিয়ে যে-কোন সংগঠনের কমিটিতে কিছু কর্মীকে দিয়ে সন্তুষ্ট রাখতে হচ্ছে।
তবে ছাত্রলীগের তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, বলয় কিংবা ‘ভাই’ সংস্কৃতির কারণে যে যেভাবে পারছেন বলয় তৈরি করছেন। কেউ কেউ শিবির-ছাত্রদলের লোকজন এনে আবার কেউ অছাত্র, চোর-ছিনতাইকারী এনে বলয় বড় করছেন। আর বলয়ের কর্মীদের সন্তুষ্ট রাখতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর নামে-বেনামে গড়ে উঠা ভুয়া সংগঠনের পদ-পদবী দিচ্ছেন। এতে অনুপ্রবেশকারীরা নানা অপকর্ম করে দলকে ছোট করছে।
এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের সাতটি সহযোগী সংগঠন রয়েছে। এর বাইরে দুটি সংগঠন শ্রমিক লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত। সহযোগী সাতটি সংগঠন হলো- মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইন পরিষদ।
আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো সংগঠন করতে হলে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর অনুমোদন নিতে হয়৷ তবে তার নীতিমালা কী তা জানা যায়নি।
কিন্তু দলীয় গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে এর বাইরে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার নাম ব্যবহারসহ নানা কৌশলে শতাধিক সংগঠন গড়ে উঠেছে৷ এরমধ্যে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় সংসদ, আওয়ামী প্রচার লীগ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী শিশু লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, আওয়ামী মোটরচালক লীগ, আওয়ামী তরুণ লীগ, আওয়ামী রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎসজীবী লীগ, আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগ, জননেত্রী পরিষদ, দেশরত্ন পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পরিষদ, আমরা নৌকার প্রজন্ম, আওয়ামী শিশু যুবক সাংস্কৃতিক জোট, তৃণমূল লীগ, আমরা মুজিব হবো, চেতনায় মুজিব, মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ, নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী ইত্যাদি।
এসব বিষয় নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু গবেষণা সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল গনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন সরকারে থাকার ফলে কিছুলোক নানা সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে নানা সংগঠন তৈরি করছে। কারণ বঙ্গবন্ধুর নাম জড়িয়ে কোনো সংগঠনে থাকলে সহজে কেউ কিছু বলতে পারে না। সেজন্য কিছু প্রতারক শ্রেণির লোক বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে সংগঠন তৈরি করছেন।
তিনি আরও বলেন, যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে না তখন এসব সুবিধাভোগীরাও থাকবে না। সেজন্য এসব সুবিধাভোগী বা অনুপ্রবেশকারী লোকজনকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থেকেও বঙ্গবন্ধুর নামের অপব্যবহার রোধ না করতে পারে তাহলে এটি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা। বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির পিতা হিসেবে সরকার ও আওয়ামী লীগ এখানে উদ্যোগী হতে পারে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলে এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায় কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কিছু ব্যর্থতা অবশ্যই আছে। কারণ আওয়ামী লীগ টানা এক দশকের ওপরে ক্ষমতায় আছে। অথচ সেই অর্থে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দলের মধ্যে চর্চা নেই। তবে মাঝেমধ্যে কিছু প্রোগ্রাম হয়তো দল হিসেবে তারা করে থাকেন। কিন্তু বৃহৎ পরিসরে দলের মধ্যে চর্চা হচ্ছে না। এর মূল কারণ হতে পারে, দলে ‘ভাই’ সংস্কৃতি। এটি আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ দেশের বেশির ভাগ দলেই রয়েছে।
এছাড়া বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সাথে সাথে যাদের মিল নেই তারাই মূলত বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এজন্য সরকার, আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
আর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়া কাউকেই আমরা প্রশ্রয় দেই না। তবুও যদি কেউ বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে সংগঠন করে চাঁদাবাজি করেন তাহলে আমাদের জানান, আমরা ব্যবস্থা নেবো।
তিনি আরও বলেন, সিলেটে বঙ্গবন্ধু নামে-বেনামে গড়ে উঠা সংগঠনদের বিরুদ্ধে আমরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নিবো। কারণ আমাদেরকে নেত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন যাতে আওয়ামী লীগে কোনো অনুপ্রবেশ না হয়। সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেস্টা করবো। আর যারা নিজনিজ বলয় বৃদ্ধির জন্য বঙ্গবন্ধু কিংবা আওয়ামী লীগের নামে বে-নামে গড়ে উঠা সংগঠনের নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























