ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:২৮, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ, প্ল্যাটফর্ম ও আসন সংকটে ভোগান্তি

শতবর্ষ পেরিয়েও রুহিয়া স্টেশনে নেই যাত্রী ছাউনি

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ের শতবর্ষপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রুহিয়া রেলস্টেশনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। রুহিয়া, আটোয়ারী ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিন এ স্টেশন ব্যবহার করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন। তবে দীর্ঘদিনেও স্টেশনে নির্মাণ করা হয়নি কোনো যাত্রী ছাউনি। ফলে তীব্র রোদ কিংবা বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ট্রেনের অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

দিনাজপুর-পঞ্চগড় ডুয়েলগেজ রেলপথে চলাচলকারী একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ও বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের স্টপেজ রয়েছে রুহিয়া স্টেশনে। প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী এ স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠানামা করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত যাত্রীসুবিধা না থাকায় তাদের পোহাতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ।

স্টেশনে যাত্রী ছাউনির পাশাপাশি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পৃথক বিশ্রামাগারও নেই। ফলে বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের অপেক্ষার সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। প্ল্যাটফর্মে থাকা বসার আসনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, ট্রেন ক্রসিংয়ের সময় অধিকাংশ ট্রেন ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ালেও সেখানে নেই কোনো প্ল্যাটফর্ম কিংবা ওভারব্রিজ। ফলে মূল প্ল্যাটফর্ম থেকে ২ নম্বর লাইনে গিয়ে ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়েন যাত্রীরা। নারী, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ভোগান্তি আরও বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রুহিয়া স্টেশনটি তিন উপজেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও যাত্রীসংখ্যার তুলনায় ট্রেনের আসন বরাদ্দ অত্যন্ত কম। ঢাকাগামী একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসে রুহিয়া স্টেশনের জন্য মাত্র ২৫টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় এ সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল।

স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল বাশার, আবুল হোসেন ও শফিকুল ইসলামসহ অনেকে রুহিয়া স্টেশনের জন্য এসি সুবিধাসহ কমপক্ষে ২০০টি আসন বরাদ্দ এবং বিরতিহীন পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের স্টপেজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ, বসার আসন সংস্কার এবং ২ নম্বর লাইনে প্ল্যাটফর্ম ও ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রুহিয়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-৪) মো. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘স্টেশনে যাত্রীসেবা বাড়াতে দ্রুত যাত্রী ছাউনি নির্মাণ ও প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ করা জরুরি।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাকিব হাসান বলেন, ‘রুহিয়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।’

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হলে শতবর্ষপ্রাচীন রুহিয়া স্টেশনটি আধুনিক যাত্রীসেবার আওতায় আসবে এবং তিন উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় যাত্রীদের।

ইএন/এসএ

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়