ঢাকা, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২০ ১৪৩৩

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:২২, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০
আপডেট: ১২:২৭, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০

স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানালেও নিজেই লঙ্ঘন করেছেন মেয়র আরিফ

নমুনা জমা দিয়ে দুপুরে একটি মধাহ্নভোজে সিসিক মেয়র

নমুনা জমা দিয়ে দুপুরে একটি মধাহ্নভোজে সিসিক মেয়র

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর করোনা শনাক্ত হয়। এদিকে জানা গেছে করোনাকালে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান করলেও নিজেই তা লঙ্ঘন করেছেন মেয়র আরিফ।

বৃহস্পতিবার সকালে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য নমুনা জমা দেওয়ার পর থেকে হোম কোয়ারেন্টিন থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল স্বাস্থ্যবিভাগ। কিন্তু এদিন দুপুরে সেই নির্দেশনা অমান্য করে একটি বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের আহ্বানে নগরের একটি হোটেলে মধাহ্নভোজে অংশ নেন।

এরপর বিকেলে নগরভবনে উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি সভায়ও অংশ নেন। যেখানে নগরভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এসব অনুষ্ঠানেও স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে মেয়র ও সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানের করোনা শনাক্তের পর থেকে আতঙ্কে আছেন এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, মেয়র ও প্রধান প্রকৌশলীর করোনা শনাক্তের খবর জানার পর থেকে আমি নিজেই ভয়ে আছি। সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে কেবল আমার বোধ হয় এখন পর্যন্ত করোনা হয়নি। কিন্তু এ অবস্থায় অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়াও আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। এতে নগর ভবনের কার্যক্রম ব্যাহত হবে। ফলে কি করবো বুঝতে পারছি না।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, নমুনা জমা দেওয়ার পর থেকে তো বটেই, এমনকি কারো কোনো উপসর্গ দেখা দিলেও আমরা কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলে আসছি। সকলেরই তা মেনে চলা উচিত। কিন্তু অনেকেই তা মানছে না। একারণে করোনার সংক্রমণও কমছে না।

জানা গেছে, দুদিন আগে জ্বর ও সর্দি হওয়ার বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনা জমা দেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। একইসাথে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানও নমুনা জমা দেন।

করোনা নমুনা জমা দিয়ে সিটি নগর ভবনে আসেন মেয়র ও প্রধান প্রকৌশলী। তারা নগরভবনের দৈনন্দিন কাজে অংশ নেন। এরপর দুপুরে আবাসন প্রতিষ্ঠান আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের আহ্বানে নগরের দরগাহ গেইট এলাকার একটি হোটেলে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এতে সিসিক ও আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও সিলেটে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। 

এদিন বিকেলে নগর ভবনে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের ‘সিলেট নগরীর উন্নয়ন প্রকল্প’ উপস্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেন মেয়র আরিফ ও প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজ।

এ অনুষ্ঠানে সিসিক কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, সচিব ফাহিমা ইয়াসমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনম মনছুফ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হানিফুর রহমান, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রমজানুল হক নিহাদ, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও চীফ মার্কেটিং অফিসার তানভীরুল ইসলামসহ দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার তিনি বলেন, আমি জানতাম না তিনি (মেয়র) করোনা পরীক্ষার নমুনা জমা দিয়ে এসেছেন। নমুনা দিয়ে এলে তার অবশ্যই এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া উচিত হয়নি। এখন আমাদের সবাইকে তিনি ঝুঁকিতে ফেলে দিলেন। দায়িত্বশীল মানুষরা যদি সচেতন না হই তাহলে সাধারণ জনগণ কিভাবে সচেতন হবে।

এ ব্যাপারে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

তবে আরিফুল হকের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি বলেন, নমুনা জমা দেওয়ার সময় মেয়রের কোনো লক্ষণ ছিলো না। দুদিন আগে সামান্য জ্বর হয়েছিলো। পরে তা কমে যায়। ফলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে বলে ধারণা করেছিলেন মেয়র। একারণে কোয়ারেন্টিনে না গিয়ে পূর্ব নির্ধারিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

তারা জানান, বর্তমানে মেয়র আরিফুল হক বাসায় আইসোলেশনে আছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়