ঢাকা, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২০ ১৪৩৩

আইনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:৫৩, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
আপডেট: ০০:৩৪, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

মৌলভীবাজারের কাশিমপুর পাম্প হাউজ প্রকল্পে ৪১ কোটি টাকা লোপাট!

  • ঠিকাদার-প্রকৌশলী মিলেমিশে হাতিয়ে নিয়েছেন ৪১ কোটি টাকা!
  • প্রতিটি পাম্প কেনা হয়েছে ২ কোটি টাকায়, তবে দাম দেখানো হয়েছে ৮ কোটি টাকা করে।
  • পাম্পের দাম ৬১ কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দেখিয়ে বিল পেলেও  জার্মানিতে পাঠানো হয়েছে ১৭ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা
  • কাজ পায়নি সরকারি ২টি প্রতিষ্ঠান

প্রতিটি পাম্প কেনা হয়েছে ২ কোটি টাকায়। তবে দাম দেখানো হয়েছে ৮ কোটি টাকা করে। এভাবে ৮টি পাম্পে চারগুণ দাম দেখিয়ে ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা মিলেমিশে হাতিয়ে নিয়েছেন ৪১ কোটি টাকা!

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাশিমপুর পাম্প হাউজের পুনর্বাসন কাজে এই দুনীর্তি ধরা পড়েছে।বিষটি গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসলে মৌলভীবাজারের স্থানীয় মানুষেরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয় এক বছর আগে মৌলভীবাজার কাশিমপুর পাম্প হাউজ প্রকল্পে পাম্প কেনার অভিযোগ আসে তাদের কাছে। অভিযোগে বলা হয়- বেশি টাকায় পাম্প কেনাকাটায় সরকারি অর্থ লোপাট হয়েছে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশনে সেচেঁর মাধ্যমে অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য মৌলভীবাজার কাশিমপুর পাম্প হাউজ প্রকল্প নির্মাণ কাজ হাতে নেয় সরকার। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পযর্ন্ত চলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই প্রকল্পের জন্য ৮টি পিএন জেট পাম্প (এক্সিয়াল ফ্লো প্রফেলার টাইপ) প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এই পাম্পগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

বেসরকারি টেলিভিশনের ওই প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে জানা যায়, কারিগরি মত দেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী চৌধুরী নাজমুল আলমকে নিয়ে মাত্র এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

সে কমিটি শুধু বাংলাদেশি এজেন্ট সিগমা ইঞ্জনিয়ার্স লিমিটেডের মাধ্যমে জার্মানের কেএসবি থেকে পাম্প সবরাহ করা মত দেয়। এ কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিনারি টুলস ফ্যাক্টরি ও ডিজেল প্লান্ট দরপত্র অংশ গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিলেও শেষ পযর্ন্ত সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়নি। বলা হচ্ছে মূলত পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে এই আয়োজন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সিগমা ইঞ্জনিয়ার্স পাম্প ও যন্ত্রাংশ কেনা ভাবত ৭৮ কোটি এক লাখ টাকা দরপত্র প্রস্তাব করলে তা অনুমোদন করে পানি সম্পদ মন্ত্রণাল।

এরপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৮টি পাম্প সবরাহের পর ৬১ কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা খরচ দেখিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এই অর্থ আদায় করে।

সিগমা ইঞ্জনিয়ার্স জার্মানি পাম্প আনার জন্য উত্তরা এনসিসি ব্যাংকের শাখায় ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর একটি এলসি খুলেন। শুধু পাম্পের দাম ৬১ কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দেখিয়ে বিল পেলেও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে সিগমা ইঞ্জনিয়ার্স এনসিসি উত্তরা শাখার মাধ্যমে জার্মানিতে পাঠিয়েছেন  ১৭ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। এই হিসেবে প্রতিটি পাম্পের দাম পড়েছে ২ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা করে।

এ বিষয়ে এনসিসি ব্যাংকের উত্তরা শাখার ম্যানেজার আহসান তারিক বলেন, ‘এলসিতে যে আছে সেটাই পে করা হয়েছে। আমাদের শাখা থেকে গেলেও এটা ডিল করে হেড অফিস।’

প্রতিবেদনে বলা হয়- শুল্ক আইনে পাম্প কেনা খরচের সাথে ঠিকাদারের ১৫ শতাংশ লাভ ধরা হলেও ৮ টি পাম্প কেনায় খরচ হতে পারত সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা। অথচ ভূয়া বিল দেখিয়ে হাতি নেওয়া হয়েছে ৪১ হাজার কোটি টাকা ।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবি’র, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড হয়তোবা প্রয়াস করতে পারে এরকম জালিয়াতি ঘটনার জন্য গিনেজ  বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে নেয়ার জন্য প্রত্যশার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একারণে রাষ্ট্রীয় ক্রয়, সরকারি ক্রয়, যে নীতিমালা আছে বা যে আইন রয়েছে তা সর্র্ম্পুন লঙ্ঘন হয়েছে।’

তবে এ ব্যাপারে কাশিমপুর পাম্প হাউজ সাবেক প্রকল্প পরিচালক এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটা কেনাকাটার কোন রেট নাই, এখানে কোন দুনীর্তি হয় নাই।’

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিগমা ইঞ্জনিয়ার্সের উত্তরা অফিসে টানা দুইদিন গিয়েও কারো  পাওয়া যায়নি বেসরকারি টেলিভিশনটির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আইনিউজ/এইচকে

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়