ঢাকা, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৯ ১৪৩৩

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৩৭, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

জৈন্তাপুরে গরম চা ঢেলে শিশুর গলা ঝলসে দিলেন মক্তবের শিক্ষক

সিলেটের জৈন্তাপুরে মসজিদের মক্তবে কথা বলায় শাহরিয়ার নাফিজ নাবিল (৭) নামে এক শিশুর শরীরে ফ্লাক্সের গরম চা গরম চা ঢেলে দিয়েছেন এক শিক্ষক। এতে শিশুটির ঘাড়সহ গলার বেশ কিছু অংশ ঝলসে গেছে।  

গত মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু তিনপাড়া পশ্চিম মহল্লা জামে মসজিদের মক্তব্যে এ ঘটনা ঘটে।

নাবিল উপজেলার ফতেহপুর (হরিপুর) ইউনিয়নের হেমু মাঝপাড়া গ্রামের এখলাছ উদ্দিনের ছেলে। সে স্থানীয় হেমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিশুটির বাবা এখলাছ উদ্দিন চাকরির সূত্রে হবিগঞ্জে থাকেন। খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে এসে বিভিন্নজনের কাছে গিয়েও বিচার পাননি। 

বৃহস্পতিবার সকালে শিশুর মা-বাবা ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাহির পছা মিয়ার কাছে বিচার চাইতে যান। এ সময় তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। অসহায় পরিবারটি মামলার কথা ভাবলেও মক্তব্যের শিক্ষক ও স্থানীয় প্রভাবশীলরা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। 

শিশুটির বাবা এখলাছ উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে নাবিল গ্রামের মক্তব্যে আরবি পড়তে যায়। সেখানে আরেক শিশুর সঙ্গে কথা বলায় শিক্ষক আব্দুল করিম ফ্লাক্সের গরম চা তার শরীরে ঢেলে দেন। এতে তার গলা ও ঘাড়ের অনেকখানি পুড়ে চামড়া উঠে যায়। এ ঘটনার পর শিশুর মাকে চাপ দিয়ে কাউকে বিষয়টি জানাতে নিষেধ করা হয়। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে তাকে ওষুধ এনে দেওয়া হয়। আমার ছেলেটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। এই ঘটনায় আমি থানায় মামলা করবো। 

এবিষয়ে অভিযুক্ত হেমু তিনপাড়া পশ্চিম মহল্লা জামে মসজিদের মক্তব্যের শিক্ষক আব্দুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী বলেন, শিশু নির্যাতনের বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তা তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আইনিউজ/এজেএল 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়