ঢাকা, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:১৯, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

এমসি কলেজে তরুণী ধর্ষণ : ধর্ষক তারেক কোথায়?

সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভূক্ত পাঁচজনসহ এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই মামলার এজাহারভূক্ত আসামিদের মধ্যে শুধুমাত্র তারেকুল ইসলাম তারেকের (২৮) কোনো খোঁজ মিলছে না। ফলে প্রশ্ন ওঠেছে, তারেক এখন কোথায়? 

তারেক সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা তারেককে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। 

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্তি উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তিময় সরকার বলেন, তারেককে গ্রেফতারে করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। 

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকালে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক দম্পতি। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ৫-৬ জন যুবক জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায় দম্পতিকে। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে ১৯ বছরের গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে গৃহবধূকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে শাহপরাণ থানা পুলিশ। 

ঘটনার পরই অভিযুক্তদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। ঘটনার দিন গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপও উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে শনিবার সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী। মামলার আসামিরা হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মাসুম। তাদের মধ্যে চারজন এমসি কলেজেরই শিক্ষার্থী। মামলার অপর তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনায় সর্বশেষ সোমবার রাত ১১ টায় জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর থেকে এই মামলার আসামি মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতার করে কানাইঘাট থানা পুলিশ। এর আগে রোববার সকালে ছাতক থেকে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও মাধবুপর থেকে অর্জুন লস্করকে গ্রেফতার করা হয়। রোবার রাতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

একই রাতে হবিগঞ্জ সদর থেকে মামলার এজাহারভূক্ত আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ওই রাতেই সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে  মো. আইনুদ্দিন ও মো. রাজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৯। এজাহারে নাম না থাকলেও এই ঘটনার পর থেকে আইনুদ্দিন ও রাজনের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া অন্য আসামিরাও এ ঘটনায় আইনুদ্দিন ও রাজন জড়িত বলে জানিয়েছে। গ্রেফতার হওয়া সকলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মঙ্গলবার রনি, রাজন ও আইনুলের ৫ দিন করে রিমাণ্ডে নিয়েছে পুলিশ।  এর আগের দিন সোমবার সাইফুর, অর্জুন ও রবিউলকে সোমবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। 

বর্বরোচিত  ওই  ঘটনার পর ক্ষোভ, নিন্দা আর ধিক্কারে সরব হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সংগঠন। অবিলম্বে ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের দাবি সবার। বন্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কর্মীদের থাকতে দেওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ১২৮ বছরের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় এক কলঙ্কজনক ইতিহাস সৃষ্টি হলো।

আইনিউজ/এজেএল 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়