ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৯ ১৪৩৩

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:০৮, ১২ অক্টোবর ২০২০

সিলেটে বন্দর ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ৪ পুলিশ বরখাস্ত, প্রত্যাহার ৩

সিলেটের কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিন আহমদের (৩৪) মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁড়িটির ইনচার্জ পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মহানগর পুলিশ। একই সাথে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বাকি তিনজন হলেন-সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তৌহিদ মিয়া, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও হারুনুর রশীদ। আর প্রত্যাহার করা তিনজন হলেন-এএসআই আশীক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেন। তাঁরা সবাই বন্দরবাজার ফাঁড়িতে কর্তব্যরত ছিলেন।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেন
 
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া ফলাফল বিশ্লেষণ করে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এক আদেশে চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাময়িক বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা সাত পুলিশ সদস্যকে নিয়ে আরেক দফা তদন্ত চলছে। এই তদন্তের পর দোষীদের রায়হান হত্যা মামলায় আসামি করা হতে পারে। 

এদিকে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় আজ সোমবার পুলিশের বিরুদ্ধে এবং ‘হত্যাকারীদের’ ফাঁসির দাবিতে রায়হানের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বিক্ষোভকারীরা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ৭২ ঘণ্টার ভেতরে রায়হানের হত্যাকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে।
 
মানববন্ধনে কয়েক’শ লোক উপস্থিত হয়ে রায়হান ‘হত্যা’র প্রতিবাদ করেন এবং ‘হত্যাকারীদের’ বিচার চান। এসময়  বিক্ষোভকারীরা পুলিশবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্লে-কার্ড হাতে নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ান।

প্রসঙ্গত, রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ (৩৪) নামে এক যুবককে রহস্যজনক মৃত্যু হয়। রায়হান আহমদের পরিবারের অভিযোগ, রায়হানকে আটকের পর দাবিকৃত টাকা না পেয়ে পুলিশ তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। পুলিশ প্রথমে ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি তদন্তের আশ্বাস দেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে পুলিশ যেখানে গণপিটুনির কথা বলছে, সিটি করপোরেশনের সিসি টিভি ফুটেজে ওই এলাকায় এমন কোনও ঘটনার সত্যতা মেলেনি। স্থানীয় কাউন্সিলর ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়ে এ দাবি করেছেন।

নিহত রায়হান সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারিপাড়ার গুলতেরা মঞ্জিলের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি এক সন্তানের জনক। নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটস্থ ডা. আবদুল গফ্ফারের চেম্বারে সে চাকরি করতেন। 

এই ঘটনায় গতকাল রবিবার রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদি হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। যদিও এই মামলায় এজহার নামীয় কোনো আসামী নেই।

আইনিউজ/এজেএল

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়