Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ০৪ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২০ ১৪৩২

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০১, ১৫ জানুয়ারি ২০২৪

ফুলতলীতে ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে লাখো মানুষের ঢল

ঈসালে সাওয়াব মাহফিলের বয়ান শুনছেন সমবেত মুসল্লিরা।

ঈসালে সাওয়াব মাহফিলের বয়ান শুনছেন সমবেত মুসল্লিরা।

সিলেটের সুন্নি ধারার মুসলমানদের একাংশের কাছে আল্লামা সৈয়দ ফুলতলী (র.) এক অন্যরকম আবেগের নাম। প্রতিবছর ফুলতলী ছাহেব বাড়ি সংলগ্ন বালাই হাওরে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর ১৬তম ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষে বিশাল ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে সমবেত হন দেশের লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ। এবছরও ফুলতলীতে ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে উপস্থিত হয়েছে লাখো আশেকান। 

ফুলতলীতে ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে ফুলতলী পীর সাহেবের ছেলে বর্তমান পীর আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেছেন আমরা যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী, হানাফী আমরা যেন ছোটখাটো বিষয়ে পরস্পরের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি না করি। হযরত শাহ ওলীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.), শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) প্রমুখ।

এ উপমহাদেশে আহলে সুন্নাতের অনুসরণীয় আলিম। তাদের কিতাবাদি পড়ুন। অনেক ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে যাবে। তাসাওউফের নামে এ উপমহাদেশে অনেক বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। শাহ ওলীউল্লাহ (র.) সঠিক পথ বাতলে দিয়েছেন। তাঁর মাধ্যমে আমাদের সনদ রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত পৌঁছেছে। আমরা ইয়া রাসূলুল্লাহ বলি, ইস্তিগাছায় বিশ্বাস করি। এ কারণে কেউ কেউ আমাদের বিদআতী বলে থাকেন। অথচ হযরত শাহ ওলীউল্লাহ (র.) এর কিতাবে ইস্তিগাছা রয়েছে। হযরত থানভী (র.) তাঁর কিতাবে আরবী শে’র এনেছেন এবং এগুলোর উর্দু তরজমা করেছেন যেখানে ইস্তিগাছা রয়েছে। তাবলীগী নেসাবের কিতাব ফাযাইলে দরুদ এর মধ্যে যাকারিয়া (র.) আল্লামা জামী (র.) এর শে’র এনেছেন যেখানে ইয়া রাসূলাল্লাহ বলে আহ্বান রয়েছে। সুতরাং আমরা যেন পরষ্পর ভুল বুঝাবুঝি থেকে বিরত থাকি।

১৫ জানুয়ারি (সোমবার) বাদ জুহর ফুলতলী ছাহেব বাড়ি সংলগ্ন বালাই হাওরে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর ১৬তম ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষে বিশাল ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে মুরিদীন-মুহিব্বীনের উদ্দেশ্যে তা’লীম-তরবিয়ত প্রদানকালে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরি উস্তাযুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, মুরশিদে বরহক হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী এসব কথা বলেন।

তিনি আল্লামা ফুলতলী (র.) এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, কৈশোরের অনেক স্মৃতি আছে। মা-বাবা উদ্বুদ্ধ করেছেন প্রাণপ্রিয় জন্মভূমির পথঘাট, পাহাড়-পর্বত অতিক্রম করে যেন অসহায় মানুষের খেদমত করি। তাঁর প্রেরণায় অসহায় মানুষের মৃত্যুর পর তাদের এতীম সন্তানদের কাছে যাই। অনেক ঝুপড়ি ঘরে প্রবেশ করি। সুরমার তীরে ভাঙ্গা ঝুপড়ি ঘরে মাটির উপর চাটাইয়ে বসে যে তৃপ্তি পাই অট্টালিকায় বসে তা পাই না। অনেক দেশে গেছি কিন্তু গ্রাম-বাংলার অসহায় মানুষের পরশে যে প্রশান্তি পেয়েছি তা অতুলনীয়। অসহায় মানুষের সেবার এ আগুন আল্লামা ফুলতলী (র.) বহু হৃদয়ে জ্বালিয়ে গেছেন। এ খেদমত যেন কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকে। আমাদের খেদমতের অনেক প্রজেক্ট রয়েছে যার সব কিছু বলছি না। তবে কেউ মারা গেলে আমার কার্যালয়ের দায়িত্বশীলদেরকে খবর দেবেন।

লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ মাহফিল সকাল সাড়ে ১০টায় আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর মাজার যিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর খতমে কুরআন, খতমে বুখারী, খতমে খাজেগান, খতমে দালাইলুল খাইরাতের পাশাপাশি স্মৃতিচারণমূলক ও জীবনঘনিষ্ট আলোচনায় অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে অতিবাহিত হয় পুরো দিন।

রাতব্যাপী মাহফিলে দেশের প্রখ্যাত আলিম উলামা, শিক্ষাবিদ ও জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত হয়েছেন। 

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়