ঢাকা, বুধবার   ০৬ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৩ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:১০, ৬ মে ২০২৬

দুই আসনে জয়, একটি ছাড়তেই হবে— কোনটি রাখবেন শুভেন্দু?

শুভেন্দু অধিকারী

শুভেন্দু অধিকারী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির রাজ্য রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার একসঙ্গে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয়ী হয়েছেন। আসন দুটি হলো নন্দীগ্রাম এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর।

তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে শুভেন্দুকে এই দুই আসনের একটি ছেড়ে দিতে হবে। ভারতের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ৩৩(৭) অনুযায়ী, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ দুটি আসন থেকে নির্বাচন করতে পারলেও একসঙ্গে দুটি আসনের বিধায়ক (এমএলএ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।

নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ১৪ দিনের মধ্যে তাকে একটি আসন থেকে পদত্যাগ করতে হবে। যে আসনটি তিনি ছাড়বেন, সেখানে ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের নির্বাচনে ভবানীপুরে সরাসরি লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম আসনেও তিনি ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে জয় পান, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পবিত্র করকে হারান।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ছিল ভারতের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্র। সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে হারিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। পরে মমতা ভবানীপুরে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রীত্ব ধরে রাখেন।

তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও প্রার্থী হয়ে মমতার দুর্গ ভেঙেছেন শুভেন্দু।

কোন আসনটি তিনি রাখবেন—এই প্রশ্নে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তিনি বলেন, “দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই মেনে নেব। আমার মতামত থাকলে তাদের কাছেই জানাব।”

জয়ের পর প্রথমবার নন্দীগ্রামে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি ২০১১ সালের পরিবর্তনের সঙ্গী ছিলাম, আর এবার প্রকৃত পরিবর্তনের অংশ হলাম। ধৈর্য ও সহ্য—এই দুই মন্ত্র মেনে চলতে হবে।”

এছাড়া তিনি স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, যে আসনই তিনি ছাড়ুন না কেন, নন্দীগ্রামের মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন সারাজীবন।

এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নন্দীগ্রামের আবেগ, নাকি ভবানীপুরের কৌশলগত গুরুত্ব—কোনটিকে প্রাধান্য দেবেন শুভেন্দু অধিকারী?

ইএন/এসএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়