নিজস্ব প্রতিবেদক
শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলন: প্রকৃতি, কৃষি ও জনজীবনের নীরব সংকট
এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি।
পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গল চা-বাগান, বনাঞ্চল ও ছড়া-নদীর জন্য পরিচিত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন ছড়া, নদী ও কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন একটি বড় পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চললেও প্রভাবশালী চক্রের কারণে এই অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।
যেসব এলাকায় বেশি বালু উত্তোলন
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সিন্দুরখান, আশিদ্রোন, ভুনবীর, মির্জাপুর, কালিঘাট, ভুরভুরিয়া ছড়া এবং বিভিন্ন সরকারি ছড়া ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ও এক্সকাভেটর দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। অনেক ক্ষেত্রে রাতের অন্ধকারে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বালু পরিবহন করা হয়।
পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব
পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদী ও ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এতে নদীতীর ভাঙন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া চা-বাগান ও কৃষিজমির পাশের মাটি দুর্বল হয়ে ভূমিধস ও জমি ধসে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
কৃষি ও জনজীবনে প্রভাব
অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে অনেক এলাকায় গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী যানবাহনের চলাচলে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং সেচ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পূর্বেও কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয়দের ক্ষোভ দেখা গেছে।
প্রশাসনের অভিযান
সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন একাধিক অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা সিলিকা বালু জব্দ, জরিমানা এবং কারাদণ্ড প্রদান করেছে। কোথাও কোথাও বালু পরিবহনের পথ বন্ধ করতে বাঁশের ব্যারিকেডও দেওয়া হয়েছে। তবুও স্থানীয়দের দাবি, অভিযান শেষ হলেই আবার শুরু হয় বালু উত্তোলন।
কেন বন্ধ হচ্ছে না?
সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকায় শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়। নিয়মিত নজরদারি, ইজারাবহির্ভূত এলাকা কঠোরভাবে সুরক্ষা, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান সম্ভব নয়।
করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং, ড্রোন বা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নদী ও ছড়া পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতি রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা এখন শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্ব।
ইএন/এসএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার
























