ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৩ মে ২০২১,   বৈশাখ ৩০ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ১৫ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১৫:৪৮, ১৫ এপ্রিল ২০২১

সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ‘গরিবের ডাক্তার’

স্ত্রী-সন্তানদের সাথে ডা. মঈন

স্ত্রী-সন্তানদের সাথে ডা. মঈন

দেশে করোনা শনাক্তের পর থেকে দিন-রাত রোগীদের সেবায় ব্যস্ত ছিলেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত সবাই। করোনা রোগীদের সেবা করতে গিয়ে গত এক বছরে আক্রান্ত হয়েছেন অনেকেই। প্রাণও হারিয়েছেন অনেকেই।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল। ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন। এর মধ্য দিয়ে দেশে করোনায় প্রথম কোনো চিকিৎসকের মৃত্যু হয়। শুধু তাই নয়, তিনিই ছিলেন সিলেটের প্রথম করোনা রোগী।

সেই বছরের ৫ এপ্রিল জানা গিয়েছিল ডা. মঈন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। শুরুতে তাঁকে বাসায় রেখেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ৭ এপ্রিল তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সিলেটে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। পরিবারের সিদ্ধান্তে পরদিন বিকেলে তাঁকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১৫ এপ্রিল ভোর ৬ টা ৪৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ডা. মঈন সাধারণ মানুষের কাছে ছিলেন ‘গরিবের ডাক্তার’, ছাত্রদের কাছে বাবার মতো, অভিভাবকের মতো।  সহকর্মীরাও সময়ে-দুঃসময়ে তাঁর ওপরই ভরসা করতেন। ফলে তার মৃত্যুতে সিলেটসহ সারাদেশেই নেমে আসে শোকের ছায়া।

তখন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেছিলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের জন্য কষ্টের। আমরা একজন চিকিৎসককে হারালাম। ’

ডা. মঈন উদ্দিন

ডা. মঈন উদ্দিনের স্ত্রী চৌধুরী রিফাত জাহানও একজন চিকিৎসক। সিলেটের পার্কভিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফিজিওলজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক। তাঁদের দুই ছেলে। বড়টির বয়স ১১ বছর আর ছোট ছেলের ৮।

সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার নাদামপুর গ্রামে ডা. মঈন উদ্দিনের জন্ম। সেখানে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করে ভর্তি হন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজে। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে যোগ দেন।

ডা. মঈনের বাবা মুনশি আহমদ উদ্দিন ছিলেন একজন পল্লী চিকিৎসক। মৃত্যুর আগে বাবা বলে গিয়েছিলেন এলাকার অসহায় রোগীদের যেন সেবা দেন ছেলে। সেই কথাই রেখেছেন তিনি। প্রতি শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে সিলেট থেকে ছুটে যেতেন গ্রামে। গরিব রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতেন বিনা মূল্যে। অসহায় রোগীদের ওষুধও দিতেন বিনা মূল্যে। আর তাই ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।

ডা. মঈনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এই মহৎপ্রাণ চিকিৎসক নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন। দেশ ও জাতি তার এই ত্যাগ মনে রাখবে।

হ্যাঁ মনে রেখেছে সবাই। আজ সেই ‘গরিবের ডাক্তার’ খ্যাত ডা. মঈনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনিসহ করোনায় প্রাণ দেয়া সকল চিকিৎসকের প্রতি রইল শ্রদ্ধা।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়