ঢাকা, রোববার   ০১ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৭ ১৪২৮

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:০৮, ২ জুন ২০২১
আপডেট: ১০:৩৯, ৩ জুন ২০২১

রায়হান হত্যা মামলা: এসআই আকবরের জামিন নামঞ্জুর

আকবর হোসেন ভূঁইয়া ও নিহত রায়হান আহমদ

আকবর হোসেন ভূঁইয়া ও নিহত রায়হান আহমদ

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতিত হয়ে মারা যাওয়া রায়হান হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২ জুন) দুপুরে ভার্চুয়াল শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত।

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নওশাদ আহমদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আকবরের পক্ষের আইনজীবীরা বুধবার জামিন আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে মহানগর দায়রা জজ মো. আবদুর রহিম এক আদেশে জামিন নামঞ্জুর করেন।

গত বছরের ১১ অক্টোবর রায়হান আহমদকে নগরের কাষ্টঘর সুইপার কলোনি থেকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে এনে নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় এক পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোন থেকে বাসায় কল করে রায়হান বলেছিলেন, তাড়াতাড়ি ১০ হাজার টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে গিয়ে তাকে বাঁচাতে। পরে আহতাবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রায়হানের মৃত্যু হয়।

রায়হানের চাচা ফাঁড়িতে ছুটে গেলেও পুলিশ জানায়, রায়হান অসুস্থ হওয়ায় তাকে ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে গিয়ে মর্গে রায়হানের লাশ পান স্বজনরা। 

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যুর ধারায় মামলা করেন। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পিবিআই।

পিবিআই দায়িত্ব নেওয়ার পর রায়হানের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এসএমপির তদন্ত কমিটির কাছে প্রথমে হত্যার বিষয়টি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা অস্বীকার করেন। পরে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখানো হলে তারা বিষয়টি স্বীকার করে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক আওলাদ হোসেন। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই (সাময়িক বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।

অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন-সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির ‘টুইআইসি (সেকেন্ড-ইন-কমান্ড) পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)। তবে নোমানকে আলামত নষ্ট করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

আইনিউজ/এসডিপি 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়