ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৬ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

প্রকাশিত: ১১:২৭, ১৫ আগস্ট ২০২১
আপডেট: ১২:৪২, ১৫ আগস্ট ২০২১

দুই মাসের শিশুকে ছুঁড়ে ফেলে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা: সিলেটের সেই আয়ার জবানবন্দী

ছোটমণি নিবাস ও হত্যাকারী সেই আয়া।

ছোটমণি নিবাস ও হত্যাকারী সেই আয়া।

দুই মাসের নিষ্পাপ শিশুকে খুন। যে আয়া শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলো সেই হত্যাকারী।সিসিটিভি ক্যামেরায় উঠে এসেছে এই খুনের ভয়ঙ্কর দৃশ্যটি। ঘটনাটি সিলেটের বাগবাড়িতে ঘটেছে। 

বাগবাড়ি এলাকার ছোটমণি নিবাস। সিলেট সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে সেখানে আছে বর্তমানে ৪২ শিশু। এদের বয়স শূন্য থেকে সাত বছর পর্যন্ত। এদের দেখাশোনা করার জন্য রয়েছেন ৫ জন আয়া। 

এই ছোটমণি নিবাসেই ঘটেছে ২ মাস ১১ দিন বয়সী শিশু নাবিল আহমদকে খুনের ঘটনা। তাকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত আয়ার নাম সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা। ছোটমণি নিবাসের কক্ষে থাকা সিসিটিভে ফুটেজে শিশুটিকে খুনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

শিশু নাবিল আহমদকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা শনিবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে সিলেট মহানগর আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি এসএম আবু ফরহাদ জানান, শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম মোড়ল বাদি হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। শনিবার দুপুরে আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড ও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়।

ওসি এসএম আবু ফরহাদ বলেন, শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে আদালতে হাজির করে ও রিমান্ড ও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দুটোর জন্য আদালতে আবেদন করি। তবে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়াতে রিমান্ড লাগেনি।

কোতোয়ালি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই রাতে কান্নাকাটি করে ওঠে শিশু নাবিল। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আছাড় মেরে হত্যা করেন আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা। 

পুলিশ জানায়, নাবিলের কান্নাকাটিতে বিরক্ত হয়ে এক পর্যায়ে তাকে বিছানা থেকে তুলে ছুড়ে ফেলে দেন সুলতানা। এসময় বিছানার স্টিলের রেলিংয়ে বাড়ি খেয়ে মাটিতে পড়ে যায় শিশুটি। প্রচণ্ড আঘাতের ফলে তৎক্ষণাৎ জ্ঞান হারায় শিশু নাবিল। এরপর নাবিলের মুখের উপরে বালিশ চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন আয়া সুলতানা।

আর খুন করেই শেষ নয়, তিনি চেষ্টা করেন প্রমাণাদি সব গায়েব করে দেওয়ার। ছোটমণি নিবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে সাহায্য করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

ছোটমণি নিবাসের সিসি ক্যামেরায় শিশু নাবিল খুনের পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়। এই রেকর্ডের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৩ আগস্ট) রাতে আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়