ঢাকা, শুক্রবার   ০১ মে ২০২৬,   বৈশাখ ১৭ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ১৮:৪৯, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ১৮:৪৯, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সিলেটে দেশের প্রথম ইলেকট্রনিকস সিটি: তথ্যপ্রযুক্তিতে নবদ্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক : উদ্ভাবন হবে নিত্য-নতুন সব সফট্ওয়্যার। এ দেশের তরুণদের উদ্ভাবিত সফট্ওয়্যার বিদেশে রপ্তানি হবে। তৈরি করা হবে ইলেকট্রনিক পণ্য ও যন্ত্রাংশ। কর্মসংস্থান হবে ৫০ হাজার মানুষের।

এমনই স্বপ্ন নিয়ে প্রকৃতিকন্যা সিলেটে হচ্ছে দেশের প্রথম ইলেকট্রনিক্স সিটি। যা দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে খুলবে নবদ্বার।

একদিকে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ। অন্যদিকে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়া। এর মধ্য দিয়ে সিলেট ইলেকট্রনিকস সিটি ডিজিটাল বাংলাদেশের এক নতুন সম্ভাবনার সারথি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

 তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন বিপ্লবের সূচনা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ইলেকট্রনিক্স সিটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন বিপ্লবের সূচনা করবে। এখানে দুটি অংশ থাকছে। একটি অংশে আইটি ইন্ডাস্ট্রি। অন্য অংশে থাকবে আবাসন, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, শপিং কমপ্লেক্স প্রভৃতি।

আইটি ইন্ডাস্ট্রি : আইটি ইন্ডাস্ট্রি অংশে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার উৎপাদন, বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরি, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার প্রভৃতি থাকবে।

এখানে উৎপাদিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার দেশের চাহিদা পুরোপুরি মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হবে। যাত্রা শুরুর পর কোটি ডলারের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার রপ্তানিতে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

এই ইলেকট্রনিকস সিটির দুটি ট্রেনিং সেন্টারে গ্রাফিকস ডিজাইন, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেশন, জাভা এসই-৮ প্রোগ্রামিং, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, বিপিও, ই-কমার্স, এস কিউ, কোর হার্ডওয়ার্ক অ্যান্ড অপারেটিং সিস্টেম, এল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ওরাকল প্রভৃতি বিষয়ে উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পুরোদমে যাত্রা শুরু করলে এখানে প্রায় ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আইটি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের জন্য এই সিটি হবে বৃহৎ এক কর্ম এলাকা।

৩৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে ইলেকট্রনিকস সিটি

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে এই ইলেকট্রনিকস সিটি। ১৬২.৮৩ একর জমির ওপর এই সিটি গড়ে তুলতে ব্যয় হচ্ছে ৩৭৮ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে।

সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এই ইলেকট্রনিকস সিটিতে ইতিমধ্যে ভূমি উন্নয়ন, সেতু, চার হাজার বর্গফুটের আইসিটি ইনফরমেশন সেন্টার, ৩৩ কেভিএ বৈদ্যুতিক সংযোগ, গভীর নলকূপ, অভ্যন্তরীণ সড়ক, গ্যাসলাইন স্থাপন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রভৃতি কাজ শেষ হয়েছে।

বর্তমানে আইটি বিজনেস সেন্টার, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভবন নির্মাণ, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রভৃতি কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। প্রায় ৬০০ শ্রমিক এ প্রকল্পে কাজ করছেন।

নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ এবং বিগত ৫০ বছরের অবস্থা পর্যালোচনাক্রমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাচ্ছেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ

প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাচ্ছে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাজ্যে এ সংক্রান্ত বিনিয়োগ ক্যাম্পেইনে ব্যাপক সাড়াও মিলছে।

এ লক্ষ্যে সম্প্রতি সিলেট চেম্বারের উদ্যোগে দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করে উদ্যোক্তাদের অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের যৌথ উদ্যোগ সেমিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রবাসীরা সিলেট হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

অন্যান্য তথ্য

৪০ বছর মেয়াদী প্লট লিজ দেয়া হবে। প্রতি স্কয়ার মিটার ভূমির ভাড়া হবে প্রতি বছর ১.৫ ডলার। এছাড়া ৩১ হাজার স্কয়ার মিটার স্পেস বিনিয়োগকারীদের ভাড়া দেয়া হবে।

বিনিয়োগকারীরা ট্যাক্স হলিডেসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবেন। কোনো ছাড়পত্রের জন্য কোনো দপ্তরে দৌড়াতে হবে না। ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ১৪৮টি সেবা প্রদান করা হবে। যত রকম সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন হবে তা সরকারই করে দেবে, তবে কোম্পানি গঠনের পর তা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।

জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে হাইটেক শিল্পের বিকাশ : প্রতিমন্ত্রী

সম্প্রতি এই ইলেকট্রনিকস সিটি পরিদর্শনে আসেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে হাইটেক শিল্পের বিকাশ। মৌলিক অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে ইলেকট্রনিকস সিটি তথা হার্ডওয়্যার শিল্প প্রতিষ্ঠা করা, আইটি ও আইটিইএস শিল্প প্রতিষ্ঠা এবং সংশ্লিষ্ট কাজ পরিচালনার জন্য বিদেশি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্যই হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য

সিলেট হাইটেক পার্কের প্রকল্প পরিচালক প্রকল্প পরিচালক ব্যারিস্টার সরওয়ার বলেন, ‘বর্তমানে দ্রুতগতিতে এর নির্মাণকাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সরাসরি নির্দেশনায় প্রকল্পটি দ্রুত গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুব শীঘ্রই শেষ হবে। বিনিয়োগের জন্য প্রকল্পটি বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

চেম্বার সভাপতির বক্তব্য

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, এখানে সিলেটের উদ্যোক্তা ছাড়াও প্রবাসীরা শিল্পায়নে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। ইলেকট্রনিকস সিটিকে ঘিরে সিলেটে আরও নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠবে।

তিনি বলেন, সরকার নিজ উদ্যোগে সম্পূর্ণভাবে অবকাঠামো তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার খুবই আন্তরিক। তিনি সরকারের দেয়া এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য দেশি ও প্রবাসী প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

Green Tea
সর্বশেষ