ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৮

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৩৭, ১১ মে ২০২১
আপডেট: ১০:৩০, ১২ মে ২০২১

নীল রঙের চাদরে মোড়া কল্পনার এক স্বর্গরাজ্য, আছে রহস্যও

শেফচাউন

শেফচাউন

বাড়ি, ঘর, দরজা, জানালা থেকে শুরু করে শহরের সবকিছুই নীল রঙে রাঙা। স্বপ্নের মতো মনে হলেও এমনই একটি শহর আছে। যেখানে গেলে আপনার মনেই হবে না আপনি পৃথিবীতে আছেন। ঠিক যেনো নীল রঙের চাদরে মোড়া কল্পনার এক স্বর্গরাজ্য। যার নাম শেফচাউইন

মরোক্কোর টাঙ্গিয়ার এবং তাতোয়ান থেকেও ভেতরের দিকে শেফচাউইন অবস্থিত। শহরটির বিশেষত্ব হলো নীল রং। যেদিকে চোখ যাবে শুধু নীল আর নীল। এমনকি পুরো শহরের রাস্তাও নীল রংয়ে আচ্ছাদিত। এ কারণে সারাবছর পর্যটকের আনাগোনা এখানে লেগেই থাকে।

পর্যটকদের থাকার জন্য ২০০ হোটেল আছে শেফচাউইনে। সেখানে গেলে আপনি খালি হাতে ফেরার কথা ভাবতেই পারবেন না। কারণ শেফচাউইন শপিং গন্তব্য হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। মরোক্কোর দেশীয় হস্তশিল্প শুধু শেফচাউইনেই পাওয়া যায়। যেমন- উলের পোশাক এবং বোনা কম্বল।

মরোক্কোর ‘নীল মুক্তো’ হিসেবে পরিচিত শেফচাউন শহরটি। ১৪৭১ সালে আবদুল-সালাম আল-আলামী এবং ইদ্রিস প্রথমের বংশধর মৌলে আলী আলী ইবনে রশীদ আল-আলামী এই শহরে একটি ছোট কাসবাহ (দুর্গ) প্রতিষ্ঠা করেন। আল-আলামি উত্তর মরক্কোর পর্তুগিজ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এই শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

শেফচাউনে গেলে দেখতে পাবেন, সেখানকার সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহাসিক গ্রেট মসজিদ। যার অবস্থান উটা হাম্মামে। শহরের পূর্বদিকে একটি পাহাড়ের উপরে আছে ১৯২০ সালে স্প্যানিশ দ্বারা নির্মিত একটি মসজিদ। পাহাড়ের উপর উঠে এই মসজিদে গেলেই পুরো শহর এক ঝলকে দেখা যায়।

মরোক্কোর শেফচাউইনেই রয়েছে কেফ টোগোবিট গুহা। যা আফ্রিকার গভীরতম গুহাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়াও সেখানকার নীলচে সৌন্দর্য পাগল করে সবাইকে। শেফচাউনের নীল দেয়ালগুলো বিশ্ববাসীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এর রহস্য কী?

শেফচাউইন শহরটি নীল হওয়ার কারণ সম্পর্কে বেশ কয়েকটি তত্ত্ব আছে। একটি জনপ্রিয় তত্ত্ব হলো নীল রং মশাকে দূরে রাখে। এ ছাড়াও বলা হয়, নীল আকাশ হলো স্বর্গের প্রতীক। নীল রং মনকে শান্ত করে এবং আধ্যাত্মিক জীবনের অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে। তবে স্থানীয়দের মতে, ১৯৭০ সালে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেই এ শহরের দেয়ালগুলোর রং নীল করা বাধ্যতামূলক হয়েছিল।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়