ঢাকা, রোববার ০৯ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৬, ১ মার্চ ২০২১

মিয়ানমারে আরও বড় বিক্ষোভের প্রস্তুতি

রোববার বিক্ষোভে পুলিশের গুলি ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হন ছবি: ABC

রোববার বিক্ষোভে পুলিশের গুলি ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হন ছবি: ABC

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে রোববার চলমান বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সোমবারও দেশটির সড়কে সড়কে নেমেছেন হাজারও বিক্ষুব্ধ মানুষ। ক্ষমতাসীন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আরও বড় বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে মিয়ানমারবাসী। 

এর আগে গতকাল (রোববার) বিক্ষোভে পুলিশের গুলি ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হন। পুলিশের ছোড়া গুলি, কাঁদানে গ্যাস, স্টান গ্রেনেড ও রাবার বুলেটে আহত হন অনেকে। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। হতাহতের ঘটনার পর সেনাবিরোধী আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে মিয়ানমার। ফলে ব্যাপক মাত্রায় দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে জান্তা সরকার। খবর রয়টার্সের

দাঙ্গা পুলিশের পাশাপাশি রোববার থেকে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। সশস্ত্র সেনা-পুলিশ ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়, দাউই, মায়িক, বাগো, পোকোক্কুসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে। এসব এলাকার রাজপথে দেখা গেছে ছোপ ছোপ রক্তের চিহ্ন। 

জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, 'মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি চালানো হয়েছে। নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৮ জন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত সহিংসতার নিন্দা করছি এবং সেনাবাহিনীকে দ্রুত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।'অহিংস বিক্ষোভে এ ধরনের শক্তি প্রয়োগ অগ্রহণযোগ্য।

গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিসহ শীর্ষ রাজনীতিকদের আটক ও গৃহবন্দি করে। এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন সেনাপ্রধান মিন অং লাইং। তবে তার এ প্রতিশ্রুতি প্রত্যাখ্যান করে গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, সু চিসহ গণতান্ত্রিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে দেশটিতে। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ দমনে ক্রমেই চড়াও হচ্ছে জান্তা সরকার। এ পর্যন্ত সহস্রাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) ব্যাপক জয়ে স্বীকৃতি না দিয়ে সেনাবাহিনী নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ক্ষমতা দখল করে। তবে এর বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠা বিক্ষোভ বিষয়ে জেনারেল মিন অং হদ্মাইং বলেছেন, প্রতিবাদ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণ করছে এবং পুলিশ রাবার বুলেট ব্যবহারের মতো ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করছে।

তবে বিক্ষোভে গুলিতে নিহতের সংখ্যা তার এ বক্তব্যের উল্টো চিত্রই সামনে আনছে। ক্রমেই বাড়ছে নিহতের সংখ্যা।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়