ঢাকা, রোববার ০৯ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩

আইনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ৩ মার্চ ২০২১
আপডেট: ১৫:৩৬, ৩ মার্চ ২০২১

বোবাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ছিল তার গবেষণা

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল

আজ ৩ মার্চ, টেলিফোনের অন্যতম আবিষ্কারক, প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের জন্মদিন। ১৮৪৭ সালের এই দিনে স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মের সময় তার নাম ছিল আলেকজান্ডার বেল। পরবর্তীতে তার বাবা আলেকজান্ডার মেলভিল বেল তারই এক কানাডিয়ান বন্ধুর নাম অনুসারে ছোট ছেলের মধ্য নাম রাখেন গ্রাহাম। এরপর থেকেই তিনি আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। তবে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা তাকে এলেক নামেই ডাকতো।

আলেকজান্ডারের অন্য পরিচয় বোবাদের পিতা তথা দ্য ফাদার অফ দ্য ডিফ। তার মা এবং স্ত্রী দুজনই ছিলেন বোবা। এ কারণে বোবাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অনেক গবেষণা করেন তিনি।

টেলিফোন উদ্ভাবনের আগে থেকেই শ্রবণ ও কথন সংশ্লিষ্ট গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন আলেকজান্ডার। ১৮৭৬ সালে তিনিই প্রথম টেলিফোনের প্রথম মার্কিন পেটেন্টের সম্মানে ভূষিত হন। পরবর্তী তিনি আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন; যার মধ্যে রয়েছে উড়ো নৌকা এবং বিমানচালনবিদ্যা। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।

শিক্ষা জীবন

খুব অল্প বয়সে এডিনবার্গের রয়েল হাই স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন আলেকজান্ডার। সেখানে তিনি চার ক্লাস পর্যন্ত পড়ে পড়াশুনা ছেড়ে দেন। তখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর। বাবার উচ্চাশা সত্ত্বেও পাঠ্যবিষয়গুলোর প্রতি কোন আগ্রহই ছিল না তার। বিজ্ঞান এবং বিশেষ করে জীববিজ্ঞানে তার আগ্রহ ছিল বেশি। স্কুল ত্যগের পর তিনি দাদার সঙ্গে লন্ডনে গমন করেন। বহুকাল থেকেই বক্তৃতা কৌশল শিক্ষাদানের কাজ করে আসছিল আলেকজান্ডারের পরিবার। লন্ডনে তার দাদা, চাচা ও বাবা সকলেই এই পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন। ফলে লন্ডনে যাওয়ার পর দাদা তাকেই শিক্ষানবিশ শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন এবং এই বিষয়ের প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই আলেকজান্ডার শিক্ষানবিশ শিক্ষক হিসেবে স্কটল্যান্ডের ওয়েস্টন হাউস একাডেমিতে যোগদান করেন। এর পরের বছর তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৮৬৮ সালে স্বপরিবারে কানাডা যাওয়ার আগে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন।

উদ্ভাবন

শিশুকাল থেকে প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে অত্যন্ত কৌতূহলি ছিলেন আলেকজান্ডার। এরইপ্রেক্ষিতে পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য করতেন বিভিন্ন উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ। সে সময় তার সবচেয়ে ভাল বন্ধু ছিলেন প্রতিবেশী বেন হের্ডম্যান। একটি ময়দা মিল পরিচালনা করতেন হের্ডম্যান। ফলে হের্ডম্যানের কাছে আলেকজান্ডার একদিন জানতে চান ময়দা প্রস্তুতে কি কি করা লাগে।

আলেকজান্ডারের সেই প্রশ্নের জবাবে হের্ডম্যান জানিয়েছিলেন, পরিশ্রমসাধ্য এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গমের খোসা ছাড়িয়ে ময়দা প্রস্তুত করতে হয়।

এরপর একদিন পেরেকের ব্রাশ ও ঘুর্ণায়মান প্যাডেলের সমন্বয়ে আলেকজান্ডার নিজেই একটি পেষাই যন্ত্র তৈরি করে ফেলেন। সে সময় আলেকজান্ডারের বয়স মাত্র ১২ বছর।

আলেকজান্ডারের তৈরি করা পেষাই যন্ত্রটি হের্ডম্যানের মিলে ব্যবহারও হয়েছিল অনেক বছর। এ উদ্ভাবনের জন্য আলেকজান্ডার ও বেনকে নতুন নতুন জিনিস উদ্ভাবনের গবেষণার জন্য একটি ওয়ার্কশপ উপহার দেন জন হের্ডম্যান।

ছোটকাল থেকেই সঙ্গীত ও কলার প্রতি সংবেদনশীল ছিলেন আলেকজান্ডার। এতে পেয়েছিলেন মায়ের অণুপ্রেরনাও। সব মিলিয়ে কোন প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছাড়াই অল্প বয়সে তিনি হয়ে ওঠেন একজন পিয়ানোবাদক।

এদিকে, মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে শ্রবণশক্তি হারাতে থাকা মায়ের ক্রমবর্ধমান বধীরতা আলেকজান্ডারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল। ফলে মায়ের সাথে কথা বলতে তিনি রপ্ত করেন সাংকেতিক ভাষা। যাতে নীরবেই মায়ের সাথে কথা বলতে পারেন।

মায়ের বধিরতা নিয়ে কাজ করতে গিয়েই শব্দবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা শুরু করেন আলেকজান্ডার। এই বিষয়ে তার বাবার অনেক প্রকাশনাও রয়েছে। যার মধ্যে ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত ‘দ্যা স্ট্যান্ডার্ড এলোকিউশনিস্ট’ আজকের যুগেও অনেক জনপ্রিয়। কিভাবে বধির মানুষদের অপরের ঠোঁটের নরাচরা দেখে ভাব বোঝার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, সেসব বিষয়ে আলোচনা রয়েছে বইটিতে।

বাবার কাছ থেকে এই পদ্ধতি রপ্ত করতে পেরেছিলেন আলেকজান্ডার ও তার দুই ভাই। এতে আলেকজান্ডার এতটাই পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন যে, বাবার সাথে বিভিন্ন কর্মশালায় গিয়ে নিজেই পদ্ধতিগুলো প্রদর্শন করে দর্শকদের মুগ্ধ করতেন তিনি। এমনকি কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ও উচ্চারন জ্ঞান ছাড়াই ল্যাটিন, স্প্যানিশ, স্কটিশ, গেলিক কিংবা সংস্কৃত যেকোন ভাষাই সংকেতের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারতেন।

চির বিদায়

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৯২২ সালের ২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া

আইনিউজ/আরআর

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়