ঢাকা, রোববার ০৯ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩

বিশ্ব ডেস্ক, আইনিউজ

প্রকাশিত: ১১:০২, ১৫ মার্চ ২০২১
আপডেট: ১১:৪৯, ১৫ মার্চ ২০২১

 রক্তাক্ত মিয়ানমারে একদিনে নিহত ৩৯

রক্তাক্ত মিয়ানমার

রক্তাক্ত মিয়ানমার

রক্তাক্ত মিয়ানমারে একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯ হন। রোববার (১৪ মার্চ) সেনাশাসনের ‍বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শুধু শিল্প এলাকা বলে পরিচিত হ্লাইংথায়ায় ২২ জন নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভে সবচেয়ে  মিয়ানমারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হলো এদিন।

এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দেশটিতে গত ৩ মার্চ সবচেয়ে বেশি ২৮ জন নিহত হয়েছিলেন। অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের বরাতে রয়টার্স জানায়, হ্লাইংথায়ায় চীনা অর্থায়নে পরিচালিত একটি কারখানায় আগুন দেওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও দেশটির অন্যান্য শহরে আরো ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দিন একজন পুলিশও মারা গেছেন।

চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, হ্লাইংথায়ার পোশাক কারখানায় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের অগ্নিসংযোগের পর অনেক চীনা কর্মী আহত ও আটকা পড়েছিল। এজন্য তারা চীনা সম্পত্তি ও নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। যদিও বিক্ষোভকারীরা চীনকে সামরিক জান্তার সমর্থক হিসেবে মনে করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফটো সাংবাদিক বলছিলেন, এটা খুবই ভয়াবহ ছিল। আমার চোখের সামনে মানুষদের গুলি করা হয়েছিল। এই স্মৃতি কখনও ভুলতে পারব না।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ঘোষণা করেছে যে মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের একটি জেলা ও হ্লাইংথায়ায় সামরিক আইন জারি করা হয়েছে।

সেনা পরিচালিত মায়াওয়াদ্দে টেলিভিশন জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা চারটি গার্মেন্টস ও একটি সার কারখানা জ্বালিয়ে দেয়। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পদক্ষেপ নিতে গেলে প্রায় দুই হাজার লোক তাদের আগুনের কাছে যাওয়ার পথ আটকে দিয়েছিল। এরপর পুলিশ এলোপাথাড়ি গুলি চালায়।

রয়টার্স থেকে জান্তার একজন মুখপাত্রের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ফোন করা হলে তিনি কোনো জবাব দেননি।  সেনাবাহিনী কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত ওই এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. সাসা জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। এক বার্তায় তিনি বলেন, এই রক্তপাতের জন্য অশুভ স্টেট অ্যাডমিস্টাটিভ কাউন্সিল (এসএসি) দায়বদ্ধ। তাদেরকে এর জাবাদিহি করতে হবে। 

দেশটির গণমাধ্যম ইরাবতি জানায়, এর ফলে মোট নিহত বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ১৩৪ এ পৌঁছেছে।

১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। দেশটির নেত্রী অং সান সু চিসহ শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিকদের বন্দী করা হয়। এর কয়েকদিন পরই জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও ধীরে ধীরে তা রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নেয়।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়