ঢাকা, রোববার ০৯ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ২৭ মার্চ ২০২১
আপডেট: ২২:৪৩, ২৭ মার্চ ২০২১

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে মিয়ানমারে প্রাণ হারালেন ৯০ জন

মিয়ানমারের বর্তমান অবস্থা

মিয়ানমারের বর্তমান অবস্থা

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে মিয়ানমারে শনিবার সেনাবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণ হারালেন আরও ৯০ জন। এদিন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায় বিক্ষোভকারীদের উপর। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। 

সকাল থেকেই ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়সহ মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসে। সেই সঙ্গে কঠোরভাবে তা দমন করতে শুরু করে সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী।

ইয়াংগনে দালা শহরতলীর একটি থানার বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার নাও।

বাণিজ্যিক এ রাজধানীর উত্তর দিকের জেলা ইনসেইনে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় একটি অনুর্ধ্ব-২১ ফুটবল দলের এক খেলোয়াড়ও আছেন বলে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাসিওতে ৩ এবং ইয়াংগনের কাছে বাগো অঞ্চলে ৪ জন নিহত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে। উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় হোপিন শহরেও এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

মান্দালয়ে বিভিন্ন ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার নাও। নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সের একটি শিশুও রয়েছে। রক্ত ঝরেছে মান্দালয়ের কাছে অবস্থিত সাগাইং এলাকাসহও আরও কিছু অঞ্চলে।

সব মিলিয়ে শনিবার মিয়ানমারজুড়ে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার নাও। তবে বিবিসি ও রয়টার্স নিহতের এ সংখ্যা সঠিক কিনা, তা যাচাই করতে পারেনি।

একটি অনলাইন ফোরামে ক্ষমতাচ্যুত আইনপ্রণেতাদের জান্তাবিরোধী গোষ্ঠী সিআরপিএইচের মুখপাত্র ড. সাসা বলেছেন, আজ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য লজ্জা দিবস। তিনশর বেশি নিরাপরাধ বেসামরিক মানুষকে হত্যার পর সামরিক বাহিনীর জেনারেলরা সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করছেন।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে মোট নিহতের সংখ্যা এখন ৩৮০ ছুঁইছুঁই। শুক্রবার পর্যন্ত এ সংখ্যা ৩২৮ এ ছিল বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্স (এএপিপি)।

শনিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রাজধানী নেপিডোতে সামরিক কুচকাওয়াজে সভাপতিত্ব করার পর মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেল মিন অং হ্লাইং নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যদিও কবের মধ্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন, তার সময়সীমা বলেননি।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কারণ ব্যাখ্যায় হ্লাইং বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা অং সান সু চি এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির ‘বেআইনী কার্যকলাপের’ কারণে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় এরই মধ্যে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সেনা পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

শুক্রবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সতর্কবার্তায় বিক্ষোভকারীদের বলা হয়েছে, আপনাদের এর আগের মৃত্যুগুলো থেকে শেখা উচিত যে আপনারা মাথা ও পিঠে গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো বিপদে পড়তে পারেন।

অবশ্য এই সতর্কবার্তায় এটি উল্লেখ করা হয়নি যে বিক্ষোভ দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে গুলি করে হত্যার নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না। তবে সেই সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করেই আজ রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ গুলিতে এবং তাঁদের এক-চতুর্থাংশের মাথায় গুলি করা হয়েছে।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়