ঢাকা, শনিবার   ১৩ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৮, ৩০ মার্চ ২০২১
আপডেট: ১১:৫৯, ৩০ মার্চ ২০২১

পুনরায় চালু সুয়েজ খাল, নড়েছে `এভার গিভেন`

দৈত্যাকার আকৃতির জাহাজ এভার গিভেন!

দৈত্যাকার আকৃতির জাহাজ এভার গিভেন!

বাস্তবিকভাবেই যেনো টাইটানিকের মতো বিশাল এক জাহাজ। তবে টাইটানিকের মতো জ্যাক আর রোজকে না নিয়ে এটি ভেসেছে বড় বড় কন্টেইনার বোঝাই হয়ে।

জাহাজটির নাম ‘এভার গিভেন’। কনটেইনারবাহী বিশাল এই জাহাজ আটকে যাওয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নৌ চলাচল বন্ধ ছিল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যপথ মিশরের সুয়েজ খালে। অবশেষে সেই পথ খুলেছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সুয়েজ খাল আবার চালু হয়েছে। সুয়েজ খালে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আটকে থাকা কনটেইনারবাহী জাহাজটি ভাসানোর পর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক নৌপথে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।

‘এভার গিভেন’ নামে বিশাল জাহাজটিকে স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ মার্চ) সফলভাবে সরানো সম্ভব হয়। এক সপ্তাহ ধরে টানা প্রচেষ্টার পর এই সাফল্যে উল্লাসে ফেটে পড়েন উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা। কিন্তু তখনও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। বলা হয়েছিল, এভার গিভেন জাহাজটি ভাসানো হলেও আরও কিছু সময় লাগবে পথটি যান চলাচলে।

গত মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) সকালে সুয়েজ খাল অতিক্রমের সময় প্রায় ২০ হাজার কনটেইনার নিয়ে প্রবল বাতাস ও ধূলিঝড়ের কবলে পড়েছিল এভার গিভেন। প্রতিকূল আবহাওয়ায় জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে সংকীর্ণ সুয়েজ খালে প্রায় আড়াআড়িভাবে আটকে যায় ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজটি। সুয়েজ খালে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই প্রান্তে জাহাজজট সৃষ্টি হয়। আটকা পড়ে কয়েকশ জাহাজ।

গত বুধবার (২৪ মার্চ) থেকে শুরু হয় জাহাজটির উদ্ধার অভিযান। যা টানা চলে। উদ্ধারকাজে যুক্ত হয় এক ডজনের বেশি টাগবোট। আটকে পড়া জাহাজটিকে নাড়াতে শক্তিশালী টাগবোটগুলো ব্যবহার করা হয়। উচ্চ জোয়ারের সময় সামনে-পেছনে ধাক্কা দিয়ে জাহাজটিকে নাড়ানোর কাজ করে টাগবোটগুলো।

পাশাপাশি ড্রেজার দিয়ে জাহাজটির আশপাশ, সামনে-পেছনে ও নিচ থেকে কাদা-বালু খনন করে তা সরানো হয়। গত রোববার থেকে জাহাজটির কাছ দিয়ে, গভীরভাবে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটিকে মুক্ত করতে ৩০ হাজার কিউবিক মিটারের মতো বালু অপসারণ করা হয়।

সমন্বিত নানা কৌশলের মধ্যে জাহাজটিকে হালকা অনলোড করার বিষয়টিও ছিল। ভার কমাতে জাহাজটিকে থেকে কার্গো, জ্বালানি, পানি ইত্যাদি সরানোর কৌশলও বিবেচনায় নেন উদ্ধারকারীরা। টানা প্রচেষ্টার পর প্রায় এক সপ্তাহের মাথায় এ সাফল্য।

এর আগে বিশেষজ্ঞরা বিবিসিকে বলেছিলেন, এ ধরনের অপারেশনে বিশেষজ্ঞ সরঞ্জাম আনতে হবে, যার মধ্যে একটি ক্রেনও থাকতে হবে, যেটি আবার ২০০ ফুটেরও উঁচু হতে হবে। এমনকি কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

মিসরের কর্মকর্তারা বলেছেন, যেসব জাহাজ জটে পড়েছে, সুয়েজ খাল দিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে, সেগুলো এখন ধীরে ধীরে অতিক্রম করবে। এছাড়া এ জাহাজটি স্বাভাবিক হতে তিনদিনের মতো লাগতে পারে। তবে একাধিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

২০১৮ সালে তৈরি পানামার পতাকাবাহী জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার। প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার টন ওজনের জাহাজটি ২০ হাজার কনটেইনার ধারণ করতে সক্ষম। জাহাজটি প্রায় ১৮ হাজার ৩০০ কনটেইনার বহন করছিল। তাইওয়ানের এভারগ্রিন মেরিন করপোরেশন জাহাজটি লিজ নিয়ে পরিচালনা করছে।

এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংক্ষিপ্ততম জলপথ হলো সুয়েজ খাল। ১৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথে তিনটি প্রাকৃতিক হ্রদ আছে।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়