ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ৩ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৫২, ৩০ মার্চ ২০২১
আপডেট: ১৩:৫২, ৩০ মার্চ ২০২১

ল্যাব নয়, প্রাণী থেকেই ছড়িয়েছে করোনা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সারাবিশ্বে তাণ্ডব সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস ল্যাব থেকে নয়, প্রাণী থেকেই ছড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও চীনের বিজ্ঞানীদের করোনার উৎসের খোঁজে যৌথ অনুসন্ধানী দলের খসড়া প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। যা সংবাদ সংস্থা এপির হাতে এসেছে সম্প্রতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস বাদুড় বা অন্য কোনো প্রাণী থেকে মানুষের দেহে ছড়িয়ে থাকতে পারে। করোনার উৎপত্তির এটিই সবচেয়ে সম্ভাব্য এক দৃশ্যপট।

প্রতিবেদনে করোনাভাইরাস ল্যাব থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে যে গুঞ্জন ছিল, সেটিও উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ল্যাব থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

ডব্লিউএইচও এবং চীনা বিজ্ঞানীদের করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের এই খসড়া প্রতিবেদন সম্প্রতি হাতে পেয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েট প্রেস (এপি)। বিজ্ঞানীদের এই অনুসন্ধানের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বারবার পিছিয়ে দেয়া হলেও ফল প্রত্যাশিতই ছিল। তবে অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানাই থেকে গেছে।

ডব্লিউএইচও এবং চীনা বিজ্ঞানীদের ওই দল ল্যাব থেকে করোনার ছড়িয়ে পড়ার পূর্বানুমান ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে আরও গবেষণার প্রস্তাব দিয়েছেন। যে কারণে মহামারির দায় চীনের ওপর চাপানো ঠেকাতে করোনার উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাল্টাতে চীনা পক্ষ চেষ্টা করছে কি না সেটি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য প্রস্তুত হতে পারে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন। এর মধ্যেই সোমবার ডব্লিউএইচওর সদস্য একটি দেশের জেনেভাভিত্তিক কূটনীতিকের কাছ থেকে প্রতিবেদনের প্রায় চূড়ান্ত সংস্করণটি পেয়েছে মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি।

চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে মধ্য-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হওয়া চীনের হুবেই প্রদেশের উহান সফর করেন। সেখানে প্রায় এক মাস ধরে অনুসন্ধানের পর করোনার উৎপত্তি নিয়ে তারা এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন।

গবেষকরা সম্ভাবনার ক্রম অনুযায়ী করোনার উৎপত্তির সম্ভাব্য চারটি পরিস্থিতি তালিকাভুক্ত করেছেন। তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, দ্বিতীয় একটি প্রাণীর মাধ্যমে সংক্রমণের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। বাদুড় থেকে সরাসরি মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের বিস্তার মূল্যায়ন করেছেন তারা। বলেছেন, কোল্ড চেইন খাদ্য পণ্যের মাধ্যমে ভাইরাসের বিস্তারের সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু সেটি হয়নি।

বাদুড়ের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আর ভাইরাস ঘনিষ্ঠ দ্বিতীয় কোনো প্রাণী এর বাহক ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বাদুড় ভাইরাস এবং সার্স-কোভ-২ এর মধ্যে বিবর্তনীয় দূরত্ব রয়েছে; যা কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান বলে ধারণা করা হয়। তবে এর মধ্যে সংযোগকারীর অনুপস্থিতি দৃশ্যমান।

ডব্লিউএইচও-চীনা বিজ্ঞানীদের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একেবারে অনুরূপ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে প্যাঙ্গোলিনের দেহে। মিঙ্ক (বেঁজির মতো দেখতে এক ধরনের প্রাণী) এবং বিড়ালকেও কোভিড ভাইরাসের জন্য সন্দেহ করা হচ্ছে। এই দুই প্রাণীও ভাইরাসের বাহক হতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।
 
উহান মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ পিটার বেন এমবারেক শুক্রবার বলেছেন, প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এই প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই-বাছাই এবং অনুবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি প্রত্যাশা করছি, পরবর্তী কয়েকদিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং আমরা এটি প্রকাশ করতে সক্ষম হবো।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানের একটি সামুদ্রিক খাবার বিক্রির বাজারে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনের গণ্ডি পেরিয়ে দ্রুতগতিতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরের বছরের ১১ মার্চ করোনা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ