ঢাকা, শনিবার   ১৩ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৩, ১১ মে ২০২১
আপডেট: ১০:৪৬, ১২ মে ২০২১

ভারতের নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে শত শত মৃতদেহ

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ভারতের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতি মুহূর্তে সংক্রমণের ভয়ে তটস্ত সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ছবি দেখে শিউরে উঠছেন সবাই। এই দুই রাজ্যে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে প্রচুর মৃতদেহ। বিহারে দেড় শতাধিক লাশ নদীতে ভাসতে দেখা গেছে। একই ঘটনা উত্তরপ্রদেশেও।

যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের হমিরপুর জেলায় এমনই ভয় ধরানো দৃশ্য চোখে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এমন ঘটনায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। করোনা আবহে মৃতের স্তূপ, গণচিতার সাক্ষী হয়েছে ভারত। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ধারণা করছেন, যমুনায় ভাসতে থাকা মৃতদেহগুলো করোনা আক্রান্তদের হতে পারে।

দেশের একাধিক রাজ্যের মতো উত্তরপ্রদেশে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। মৃতদেহ সৎকারের জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। তাই যমুনায় ভাসতে থাকা লাশ করোনা আক্রান্তদের হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনই নাকি মৃতদেহগুলো যমুনায় ফেলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আবার উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় স্থানীয়দের যমুনা নদীতে মৃতদেহ ফেলতেও দেখা গিয়েছিল। করোনায় মৃতদেহের সংখ্যা ধামাচাপা দিতেই এই কাণ্ড বলেও অভিযোগ ওঠেছে। এই সমস্ত ঘটনাই নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

হমিরপুরের এএসপি অনুপ কুমার সিং এ প্রসঙ্গে বলেন, হমিরপুর ও কানপুরের সীমান্ত বরাবর যমুনা নদী বয়ে গিয়েছে। স্থানীয়রা এই নদীকে পবিত্র বলে বিশ্বাস করে এখানে মৃতদেহ ভাসিয়ে দেন।

একইরকম ঘটনার সাক্ষী থাকল বিহারের কাটিহারও। সেখানে দেড়শোরও বেশি কোভিডে মৃতের দেহ গঙ্গায় ভাসতে দেখা গিয়েছে। হাসপাতালে পড়ে থাকা যে সমস্ত মৃতদেহ পরিবারের তরফে চাওয়া হয় না, সেগুলোই নাকি হাসপাতালের কর্মীরা গঙ্গায় ফেলেছে। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

কুম্ভমেলার তীর্থযাত্রীরাই ভারতজুড়ে ছড়িয়েছেন করোনা

প্রথমে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকটি রাজ্যে ধরা পড়লেও, এতোটা কাহিল অবস্থায় ছিলো না ভারত। গত মাস থেকেই যেন ভারতে করোনা তাণ্ডব চালাচ্ছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ। আবার মৃত্যুবরণও করছেন অসংখ্য ভারতীয় নাগরিক। ভারতে করোনাভাইরাসের আলাদা একটি ভ্যারিয়েন্টও সৃষ্টি হয়েছে যাকে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বলা হচ্ছে। এই ভারতীয় করোনার ধরনটি মারাত্মক, আক্রান্ত হলেই বেড়ে যায় মৃত্যুর সম্ভাবনা। 

তবে ভারতে করোনা সৃষ্ট করুণ এই পরিস্থিতিতেও বন্ধ ছিলো না হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব কুম্ভমেলা। প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে এই কুম্ভমেলায়। তবে করোনাকালে এই কুম্ভমেলার তীর্থযাত্রীরাই পুরো ভারতে করোনার সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিস্তারিত...

সমালোচকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে এই কুম্ভ মেলা বাতিল করতে চান নি, তার কারণ এটি করলে তিনি সম্ভবত মাহান্ত দাসের মতো ধর্মীয় নেতাদের দিক থেকে তোপের মুখে পড়তেন। এই হিন্দু পুরোহিত, ঋষি এবং গুরুরা বিজেপির বড় সমর্থক। তারা নির্বাচনের সময় হিন্দু ভোট জোগাড় করে দিতে বড় ভূমিকা রাখে।

ভারতে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ আপডেট

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ হাজার ৮৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একদিনে দেশটিতে ৩ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি মানুষের শরীরে শনাক্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ মে) সকালে দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।

নতুন মৃত্যুর ফলে ভারতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ জনে এবং শনাক্ত পৌঁছাল ২ কোটি ২৯ লাখ ৯২ হাজার ৫১৭ জনে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে ৩০ এপ্রিল প্রথমবারের মতো শনাক্তের সংখ্যা ৪ লাখের ওপরে যায়। এছাড়া ৭ মে করোনায় একদিনে দেশটিতে চার হাজার মৃত্যুর রেকর্ড হয়। এর আগে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে একদিনে এত বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। বিস্তারিত...

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ