ঢাকা, শুক্রবার   ২২ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৬ ১৪২৮

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক, আইনিউজ

প্রকাশিত: ২০:২৯, ১৩ মার্চ ২০২১

করোনা

শেষ সময়ের কষ্টটা কি তীব্র!

`কোভিড পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। মাস দুয়েক একটু শ্বাস ফেলার সুযোগ পেয়েছিলাম। কখনো একটা বেডও খালি রাখতে না পারলেও রোগিদের ওয়ার্ডে শিফট করা যাচ্ছিল। মৃত্যুহার অনেক কম ছিল। এক সপ্তাহের মাঝে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। আক্ষরিকভাবে রোগিদের বাঁচিয়ে রাখতে আমরা এখন যুদ্ধ করছি এবং হেরে যাচ্ছি। বারবার। এই পরিবর্তন আমরা আমাদের চোখের সামনে ঘটতে দেখছি।'

‘আমাদের কথায় আপনারা বিরক্ত হন জানি, কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই, আমরা বারবার বলে যাই। কেউ না শুনলেও, সবাই মুচকি হাসলেও আমাদের বলে যেতে হবে। একটুখানি শ্বাস বুকের ভিতরে নেওয়ার জন্য মানুষের তীব্র কষ্টটা আপনারা কেউ পাশে দাঁড়িয়ে দেখেন না, শেষ সময়ের কষ্টটা কি তীব্র! আমার তেমন কোন শত্রু নেই, থাকলেও আমি তার এমন মৃত্যু চাইতাম না।’  -ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুম

নতুন করে আবার বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সাতটি পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুম। তিনি রাজধানী ঢাকায় করোনা চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড চিকিৎসা কেন্দ্র কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের প্রধান। তার নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে লেখায়-  ’কোভিডের কোনও চিকিৎসা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের হাতে নেই’ বলেও উল্লেখ করেছেন। 

করোনা রোগীদের অসহনীয় কষ্টের কথা উল্লেখ করে ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুম বলেন- ‘আমাদের কথায় আপনারা বিরক্ত হন জানি, কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই, আমরা বারবার বলে যাই। কেউ না শুনলেও, সবাই মুচকি হাসলেও আমাদের বলে যেতে হবে। একটুখানি শ্বাস বুকের ভিতরে নেওয়ার জন্য মানুষের তীব্র কষ্টটা আপনারা কেউ পাশে দাঁড়িয়ে দেখেন না, শেষ সময়ের কষ্টটা কি তীব্র! আমার তেমন কোন শত্রু নেই, থাকলেও আমি তার এমন মৃত্যু চাইতাম না।’ 

করোনার নতুন আরেকটি ওয়েভের শঙ্কার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন- ‘ এর বিস্তার বাইরে থেকে তেমন বোঝা যায়না। যেই পরিবারের কেউ এর মাঝ দিয়ে যায় শুধু তারা জানেন। হয়তো আমরা আরেকটি ওয়েভের শুরুর পথে । এই সময়ে রোগিরা দ্রুত খারাপ হচ্ছেন। মনে রাখবেন, এখনো কোভিডের কোন চিকিৎসা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। তাই এর প্রতিরোধই একমাত্র পথ।’ 

নিজেদের অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করে ডা. মাসুম বলেন- ‘আমাদের ফোন আবার ব্যস্ত হয়ে গেছে চেনা অচেনা মানুষের কলে। খুব কষ্ট হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের কিছু করার থাকেনা। 

বিশ্বাস করুন, আমাদের একমাত্র চাওয়া সবাই ভালো থাকুন। কার্ভের শুরুতে যদি এই অবস্থা থাকে তবে এর পিকে আমরাই বা কেমন থাকবো।’

করেনাার নতুন ওয়েভ প্রতিরোধে সাতটি অনুরোধ জানান এই করোনা যোদ্ধা

১. সকল সামাজিক জমায়েত থেকে অসামাজিকভাবে দূরে থাকুন।
২. পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের নিরাপদ রাখুন। (তবে এটাও মনে রাখবেন এবার আমরা প্রচুর তরুন রোগিও পাচ্ছি।)
৩. গত বছর মার্চ মাসে যে সকল সাবধানতা পালন করেছিলেন সেগুলোই একইভাবে পালন করুন, রিলিজিয়াসলী।
৪. মাস্ক নিজে পড়ুন, অন্যকে পড়তে বাধ্য করুন। প্রয়োজনে সীন ক্রিয়েট করুন।
৫. হাত সাবান দিয়ে বারবার ধুয়ে নিন। না পারলে স্যানিটাইজ করুন।
৬. অপ্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়া একদম বন্ধ করে দিন, এই মুহুর্ত থেকে। 
৭. বিপদে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয় আর হৃদয় প্রসারিত করতে হয়।
পরম করুনাময় সবাইকে নিরাপদ রাখুন।

ফেসবুকে লেখা ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুমের স্ট্যাটাসের লিংক 

নতুন করে বেড়েছে করেনাা সংক্রমণ

এক বছরের মাথায় দেশে আবার বেড়েছে করোনার প্রাদুর্ভাব। করোনা শনাক্তের একবছর পর দুই মাসের ব্যবধানে বুধবার (১০ মার্চ) আবারও হাজারের ঘরে পৌঁছায় শনাক্ত। সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি করোনা শনাক্ত ছিলেন এক হাজার ৭১ জন। এরপর ১০ মার্চ শনাক্ত হন এক হাজার ১৮ জন। পরদিন ১১ মার্চ শনাক্ত হন এক হাজার ৫১ জন। আর গতকাল ১২ মার্চ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হন এক হাজার ৬৬ জন। এরপর চতুর্থ দিন আজ করোনা শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ১৪ জন। অর্থাৎ টানা চার দিন শনাক্ত হাজারের ঘরে রয়েছে।

আইনিউজ/এইচকে

Green Tea
সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়