ঢাকা, শুক্রবার   ২২ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৭ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৫৬, ৫ মে ২০২১
আপডেট: ১৫:৩৩, ৫ মে ২০২১

নৌযান দুর্ঘটনায় পরিবারকে হারানো সেই মিমের দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার আহসান হাবীব

নয় বছরের শিশু মিম, ব্যারিস্টার আহসান হাবীব (ফাইল ছবি)

নয় বছরের শিশু মিম, ব্যারিস্টার আহসান হাবীব (ফাইল ছবি)

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বাংলাবাজার ফেরিঘাটে বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ২৬ জন মারা যায়। মৃতদের মধ্যে ছিলেন নয় বছরের শিশু মিমের বাবা-মাও। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও তার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই।

এবার সেই বাবা-মা ও দুই বোনকে হারানো শিশু মিমের দায়িত্ব নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভূঁইয়া। বুধবার (৫ মে) ভোরে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানান এই আইনজীবী।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভূঁইয়া লেখেন, ‘মিম এর থাকা-খাওয়া, জামা-কাপড়, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন এবং সুন্দর মানসিক ও পুষ্টিকর শারীরিক বিকাশের জন্য যাবতীয় দায়িত্ব নেয়ার প্রাথমিক সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। বর্তমানে সে তার নানা-নানির সাথে আছে। যেহেতু তারাই এখন তার গার্ডিয়ান, তাই এখনি তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তবে তার নানা-নানির বয়স, আর্থিক সচ্ছলতা এবং তার সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় তাকে যত দ্রুত সম্ভব ঢাকায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া করছি। তেরখাজা উপজেলার ইএনও আবিদা সুলতানার সাথে কথা হয়েছে। তিনি শীঘ্রই অত্র এলাকার উপজেলা চেয়ারম্যান এবং এলাকার গণ্যমান্য বাক্তিদের সাথে পরামর্শক্রমে এই বিষয়ে আমাকে সহযোগিতা করবেন জানিয়েছেন। অত্র এলাকার এমপি মহোদয়ের সাথে আজকে এই বিষয়ে কথা হবে। উদ্ধারকৃত শিবচর এলাকার মাননীয় এমপি লিটন চৌধুরী জানিয়েছেন আমি যদি সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেই তাহলে তিনিও মিমকে দ্রুত ঢাকায় আনার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।’

আহসান হাবিব বলেন, ‘মুহূর্তের দুর্ঘটনায় আট বছর বয়সী মেয়েটির জীবন সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে! তবে আল্লাহ্‌ সহায় থাকলে, তার একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবো ইনশাল্লাহ। আমার ইচ্ছে তাকে একটি ভালো স্কুলে পড়ানো এবং ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো। অনেকেই তাকে দত্তক নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে যোগাযোগ করছেন। যদি আমার থেকে ভালো অপশন পাওয়া যায় তাহলে আইনগত প্রক্রিয়ায় সেই ব্যবস্থাও করবো তার নানা-নানির অনুমতি সাপেক্ষে, অন্যথায় সকল দায়িত্ব আমাদের পরিবর্তন করি ফাউন্ডেশনের পক্ষে আমিই পালন করবো ইনশাল্লাহ।’

এ কাজে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় উপস্থিত হয়ে মিমকে সাহায্য করা, তার বাবা-মার লাশ দাফনে সহযোগিতা করা এবং আমাকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করার জন্য শিবচর উপজেলার ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যমুনা টিভিকে ধন্যবাদ এই ধরনের একটি মানবিক সংবাদ প্রচার করার জন্য এবং ধন্যবাদ যারা ওই ভিডিওর কমেন্টে আমাকে ট্যাগ করে ও মেসেজে ভিডিওটি পাঠিয়ে সহযোগিতা করেছেন।’

উল্লেখ্য, সোমবার ভোরে শিমুলিয়া থেকে কমপক্ষে ৩১ যাত্রী নিয়ে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় একটি স্পিডবোট। যার এক যাত্রী নয় বছরের মীম। বাবা-মা আর দুই বোনের সাথে যাচ্ছিল মৃত দাদার লাশ দেখতে। কিন্তু মাঝপথেই স্পিডবোটটি একটি বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে সব যাত্রী পানিতে পড়ে যান। এসময় মীম একটি ব্যাগ ধরে ভেসেছিল নদীতে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও তার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই।

সোমবার (৩ মে) সকালে কাঁঠালবাড়ীর বাংলাবাজার পুরোনো ঘাটে পদ্মা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে রয়েছে মীমের বাবা-মা ও দুই বোনের লাশও। বিস্তারিত...

এক রিকশাচালকের পাশেও দাঁড়িয়েছেন এই তরুণ ব্যারিস্টার

শুধু মিমের ক্ষেত্রেই নয়, আরও বহু সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আহসান হাবিব। এ আগেও লকডাউনে আটকা পড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী এক রিকশাচালকের জন্য এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। 

ওই রিকশাচালকের নাম রফিক। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। বাড়িতে তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী।

বুধবার (২১ এপ্রিল) গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভুঁইয়ার বক্তব্য। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রিকশাচালকের কান্না দেখার পর থেকে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। অবশেষে আজ তাকে রাজধানীর অদূরে ফরিদাবাদের এক গ্যারেজে খুঁজে পাই। বিস্তারিত...

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়