Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শনিবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ১৮ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৫০, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৫:৫৩, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে রিসোর্টের নারী উদ্যোক্তা লাবনী ইয়াছমিন। ছবি: আই নিউজ

সংবাদ সম্মেলনে রিসোর্টের নারী উদ্যোক্তা লাবনী ইয়াছমিন। ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রিসোর্টের মালিক ও কর্মচারীদের মারধর করে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রিসোর্টের নারী উদ্যোক্তা, ঢাকার মহাখালী এলাকার বাসিন্দা মোছা. লাবনী ইয়াছমিন।

সংবাদ সম্মেলনে লাবনী ইয়াছমিন জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ও তাঁর স্বামী শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকার জমির মালিক ইউসুফ খা’র কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ৮৬ শতক জমি ২০ বছরের জন্য লিজ নেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর লিজের টাকা পরিশোধের শর্ত ছিল। এরপর প্রায় ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তারা ‘অরণ্যবাস ইকো রিসোর্ট’ নামে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করে পর্যটকদের জন্য ভাড়া দিতে শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, তৃতীয় দফার লিজের ১০ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পর স্থানীয়দের মাধ্যমে জরিমানাসহ ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করতে গেলে জমির মালিক শর্ত ভঙ্গের অজুহাতে টাকা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং রিসোর্ট খালি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

লাবনী ইয়াছমিনের অভিযোগ, গত ২৬ নভেম্বর জমির মালিক ইউসুফ খা রাজেস ও মামনুসহ কয়েকজনকে নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে জোরপূর্বক রিসোর্ট খালি করার চেষ্টা করেন। এতে তারা অস্বীকৃতি জানালে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় এবং তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মারধর করে রিসোর্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের সহায়তায় তারা পুনরায় রিসোর্টে ফিরে যান।

এ বিষয়ে তৎকালীন ওসি আমিনুল ইসলাম ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের মাধ্যমে লিজের বাকি টাকা পরিশোধের চেষ্টা করা হলেও জমির মালিক টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রিসোর্ট খালি করার দাবিতে অনড় থাকেন।

লাবনী ইয়াছমিন বলেন, গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার পুলিশ ফোন করে তাঁর স্বামী ও রিসোর্টের অংশীদার কামরুজ্জামানকে থানায় ডেকে নেয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠানো হয় এবং আদালত তাঁকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। পরদিন তারা জামিনে মুক্ত হন। এ সময় তিনি জানতে পারেন, জমির মালিক তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইউসুফ খা’র নেতৃত্বে ২৮ থেকে ৩০ জন লোক পুনরায় রিসোর্টে হামলা চালায়। এতে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। এ সময় তাঁর জামা ধরে টানাহেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে লাথি, কিল ও ঘুষি মারাসহ শ্লীলতাহানি করা হয়। একই সঙ্গে রিসোর্টের কর্মচারী সিয়ামকে বেধড়ক মারধর করে আহত করা হয়। হামলাকারীরা রিসোর্ট থেকে ৫ লাখ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীরা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চাইলে পুলিশ তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে বলেন। চিকিৎসা শেষে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত তা রেকর্ড না করে বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন লাবনী ইয়াছমিন। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেনি বলে দাবি করেন তিনি।

একদিকে আইনি সহায়তা না পাওয়া, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের মামলায় অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাবনী ইয়াছমিন বলেন, রিসোর্টে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বিনিয়োগ হারিয়ে আমরা তিন দিন ধরে এক কাপড়ে ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। থানা পুলিশ সহযোগিতা করছে না। এএসপি, এসপি ও ইউএনওর কাছেও গিয়েছি, কিন্তু কারও কাছ থেকেই কোনো সহায়তা পাইনি।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে রিসোর্টের মালিকানা ও আদালতের বিষয় আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে। আমরা ভুক্তভোগীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছি।”

জমির মালিক ইউসুফ খা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার কাছে জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। থানায় ও আদালতে মামলা করেছি। আদালতই এর সমাধান দেবে।”

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়