ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ২ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:২৬, ৬ জুন ২০২০
আপডেট: ০২:২৭, ৬ জুন ২০২০

কষ্ট লাঘবকারি চিকিৎসার আকুতি চিকিৎসকের

ডা. মিহির। পুরো নাম মিহির কান্তি অধিকারী। একজন মানবিক ডাক্তার। বাড়ি মৌলভীবাজার। কর্মসূত্রে এখন হবিগঞ্জে। দিন-রাত কাজ করছেন মানুষের জন্য। শত ব্যস্ততার মাঝেও বিপদে পড়া মানুষদের ফোন ধরেন। করোনাকালেও সময়ে-অসময়ে টেলিফানে পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।

ডা. মিহির উচ্চ শিক্ষা নিতে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববদ্যালয়ে ছিলেন, তখন দেশের খ্যাতিমান চিকিৎসক প্রফেসর এ বি এম আব্দুল্লাহ'র সান্নিধ্য পেয়েছেন। মূলত তার কাছ থেকে সরাসরি দীক্ষালাভ করেছেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিষয়ে। মিহির করোনার বিস্তার নিয়ে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে নানা বিষয় তুলে এনেছেন। করোরাকালে খোদ চিকিৎসকদের চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগগুলো নিয়ে তিনি যেমন খেদোক্তি করেছেন, তেমনি বেঁচে থাকলে জাতির জন্য কিছু করার আকাঙ্খাও ব্যক্ত করেছেন।

আমি ও স্বপ্ন দেখি, এই দেশে অন্তত একটা বেসামরিক হাসপাতাল হবে, যেখানে সাধ্যের মধ্যে খরচে একটা স্ট্যান্ডার্ড চিকিৎসা নেয়া যাবে।

সাহস করে বলতে চাই, আমার একটা ছোট্ট প্লান আছে। বড় দালান হবে কিনা জানি না, তবে কয়েকটা ইট গেঁথে একটা চেষ্টা করতে চাই। যদি বেঁচে যাই এবারের মত, সফল হই বা ব্যর্থ, চেষ্টাটা করবোই...।

তার স্ট্যাটাসটি ছিল এমন- মৃত্যু বাড়ছে তো বাড়ছেই। অনেক সিনিয়র চিকিৎসক মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে তাদের একটি ভাল হাসপাতালে ভর্তির এবং একটু কষ্ট লাঘবকারি চিকিৎসার আকুতি ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। পাশাপাশি, অনেক ডাক্তারই তাদের বাবা মা, আত্মীয় স্বজনের ভাল চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। ডাক্তারদের জন্য আলাদা একটি হাসপাতালের দাবিও শোনা যাচ্ছে।

মনে প্রশ্ন জাগে, এই যে এত বড় বড় স্বনামধন্য ডাক্তার এতদিন এই দেশে কাজ করলেন, একটা স্ট্যান্ডার্ড হাসপাতালের প্রয়োজন কি মৃত্যুর আগ মুহুর্ত ছাড়া অন্য কখনো তারা অনুভব করেননি?

এই প্রশ্ন পাল্টা আমাকেও কেউ করতে পারেন, আপনি তো বারো- চৌদ্দ বছর ডাক্তারি করছেন, আপনি কি করলেন?

মনে হয়, এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলবেন, ডাক্তারের কাজ চিকিৎসা দেয়া। মেডিকেলের যে বইগুলো পড়ে ডাক্তারি করতে হয়, সেগুলোতে ভাল চিকিৎসা দেয়ার উপায় বলা আছে, ভাল হাসপাতাল বা হেলথ সিস্টেম তৈরির উপায় বলা নেই। কথা সত্য।

সে উপায় বলা না থাকলেও, যেখানে আপনার জীবনের সমস্ত পড়াশোনা, কষ্ট, অধ্যবসায় এবং শেষমেশ জীবনটাই একটা বাজে সিস্টেম এবং বাজে হাসপাতাল ব্যবস্থার জন্য শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে হাত গুটিয়ে রেখে লাভ কি কিছু হচ্ছে? তাহলে কিছু করতে সমস্যাটা কোথায়? মনে হয়, প্রথমত টাকা। স্ট্যান্ডার্ড হাসপাতাল তৈরি এবং মেইন্টেইন করতে অনেক টাকা লাগে। এরপর স্কিলড এবং সিনসিয়ার ম্যানেজমেন্ট। এক নাম্বার ও দুই নাম্বারের সমন্বয় সাধন আসলেই কঠিন।

জনপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ক্যান্সারে মৃত্যুর আগে ভেবেছিলেন যদি বেঁচে ওঠেন তবে ক্যান্সার হাসপাতাল গড়বেন। যে সব বিত্তশালী ব্যাক্তিরা কোভিডে মারা গেলেন, তারাও নিশ্চই এমন ভেবেছেন।

আমি ও স্বপ্ন দেখি, এই দেশে অন্তত একটা বেসামরিক হাসপাতাল হবে, যেখানে সাধ্যের মধ্যে খরচে একটা স্ট্যান্ডার্ড চিকিৎসা নেয়া যাবে।

সাহস করে বলতে চাই, আমার একটা ছোট্ট প্লান আছে। বড় দালান হবে কিনা জানি না, তবে কয়েকটা ইট গেঁথে একটা চেষ্টা করতে চাই। যদি বেঁচে যাই এবারের মত, সফল হই বা ব্যর্থ, চেষ্টাটা করবোই...।
 

নোট: হাসপাতাল ডাক্তারের জন্য আলাদা, অ-ডাক্তারের জন্য, ভি আই পি র, ভিভিআইপি র জন্য আলাদা আলাদা হতে পারে না। সকল মানুষের শরীর, বডি মেকানিজম একই। প্রাকটিস অব মেডিসিন তাই আলাদা হবার যুক্তি নাই)

এইচকে/ আই নিউজ

Green Tea
সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়