Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শনিবার   ১৪ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০২, ১২ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ১১:০৪, ১২ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ

সংসদ ভবন। ছবি: সংগৃহীত

সংসদ ভবন। ছবি: সংগৃহীত

দেড় বছরের বিরতির পর আজ শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে নতুন এই সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে আজকের অধিবেশনের মধ্য দিয়ে। ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের সদস্যরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

সংসদের কার্যক্রম শুরুর আগেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। আগের সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

এবারের সংসদে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য, সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে স্থবির থাকা সংসদীয় রাজনীতির দ্বার আবারও উন্মুক্ত হয়।

নির্বাচনে ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদের বিরোধী দলে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির জোট। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সংসদ পরিচালনার জন্য সরকারদলীয় দল বিএনপি তাদের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে চিফ হুইপ ও ছয়জন হুইপ নির্বাচন করেছে। অধিকাংশ সংসদ সদস্য নতুন হওয়ায় তাদের জন্য দুই দিনব্যাপী কর্মশালারও আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে বিরোধী দলের চিফ হুইপ হয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

অধিবেশন শুরুর আগে বুধবার সরকারদলীয় সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় বলে গণমাধ্যমকে জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

একই সময়ে বিরোধী দলীয় জোটও তাদের সংসদ সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছে। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দল থেকে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিরোধী জোট। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতারও ঘোষণা দিয়েছে তারা।

সংসদ অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদের দিকে দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। দেশের জীবিকা, উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে জাতীয় সংসদ। এখান থেকেই আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালিত হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সংসদ হতে পারে তুলনামূলকভাবে প্রাণবন্ত ও কার্যকর। নির্বাচন বিশ্লেষক আবদুল আলীম মনে করেন, সরকারদল দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেলেও বিরোধী দলের আসনসংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ফলে সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক বিতর্ক ও আলোচনা হবে, যা সংসদের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে ছিল বিএনপি। সে সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিএনপির জোটে নির্বাচন করলেও পরবর্তী তিনটি সংসদে বিএনপি ছাড়াই সংসদে ছিল দলটি।

নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়