Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, রোববার   ০১ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ১৭ ১৪৩২

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৩৪, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানে আগ্রাসনের প্রভাব: শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের জেরে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রোববার দিনের লেনদেন শুরু হতেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ ব্যাপক দরপতন দেখা যায়। লেনদেন হওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারের দাম কমে যায়, ফলে মূল্যসূচকে বড় ধস নামে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পতনের গভীরতা কিছুটা কমতে দেখা গেছে।

লেনদেনের শুরুতেই বড় ধস
রোববার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর প্রথম মুহূর্তেই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭০ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৪৩০ পয়েন্টে নেমে যায়, যা শতাংশের হিসাবে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ পতন। এর মাত্র এক মিনিট পর পতন আরও তীব্র হয়। সূচক আরও ৫৩ পয়েন্ট হারিয়ে মোট ২২৩ পয়েন্ট কমে ৫৩৭৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এ সময় সূচক পতনের হার ছিল ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ—যা ছিল দিনের সর্বোচ্চ পতন।

একই চিত্র দেখা গেছে দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও।

দুপুরের দিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানো
দুপুর ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় দেখা যায়, সূচকের পতন কিছুটা কমেছে। ডিএসইএক্স সূচক ১১২ পয়েন্ট কমে ৫৪৮৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া ৩৮৮টি কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডের মধ্যে ৩৪৩টির দর কমেছে, যা মোটের ৮৮ শতাংশ। বিপরীতে মাত্র ২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে।

লেনদেনের চিত্র
দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ৫০৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৪৭ কোটি টাকা। তুলনামূলকভাবে গত বৃহস্পতিবার প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন হয়েছিল ২৮১ কোটি টাকা এবং পরের ঘণ্টায় ১৭৫ কোটি টাকা।

দরপতনের কারণ কী?
বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে খরচ বেড়ে যাওয়া এবং করপোরেট মুনাফা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আশঙ্কাই শেয়ারবাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রেক্ষাপট
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে সামরিক হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলায় অন্তত ২০০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাল্টা জবাবে ইরান কাতার, কুয়েত ও আবুধাবিসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার খবরও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রণালী দিয়ে সৌদি আরব, ইরাক, ইরান ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জ্বালানি তেল এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানির প্রায় ২৭ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেশের শেয়ারবাজারসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়