Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ০৯ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ২৫ ১৪৩২

আই নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:৪৯, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

পুত্রসন্তান চাই!

দশ মেয়ের পর ‘পুত্রসুখ’- ৩৯ বছর বয়সে দিলখুশ

হরিয়ানার ফতেহাবাদের ১১ সন্তানের জননী সুনীতা (৩৯)। ছবি: সংগৃহীত

হরিয়ানার ফতেহাবাদের ১১ সন্তানের জননী সুনীতা (৩৯)। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধক্ষেত্র হোক কিংবা ২২ গজের মাঠ বারবার নিজেদের সেরা প্রমাণ করেছে নারীরা। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও সমাজজীবনেও তাঁরা পুরুষের সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন। তবুও কি ঘরের চার দেয়ালের ভেতরে আজও সমান সম্মান থেকে বঞ্চিত তাঁরা? হরিয়ানার ফতেহাবাদের একটি ঘটনা সেই প্রশ্নই আবার সামনে এনে দিয়েছে।

হরিয়ানার ফতেহাবাদ জেলার ভুনা ব্লকের ঢানি ভোজরাজ গ্রামে সম্প্রতি জন্ম নিয়েছে এক পুত্রসন্তান। আর এই জন্ম ঘিরেই আলোচনায় এসেছে রাজ্যে এখনও বিদ্যমান ছেলে সন্তানের প্রতি পক্ষপাতের চিত্র। কারণ, এই পুত্রসন্তানের আগে ওই পরিবারে জন্ম নিয়েছে ১০ জন কন্যাসন্তান।

দিনমজুর সঞ্জয় কুমারের স্ত্রী সুনীতা (৩৯) বিয়ের প্রায় ১৯ বছর পর একাদশ সন্তানের জন্ম দেন। দীর্ঘ সময় ধরে পুত্রসন্তানের আশায় একাধিকবার কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও আশা ছাড়েননি তাঁরা। বয়স ও শারীরিক জটিলতা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়েই সুনীতা আবার গর্ভধারণ করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে জন্ম নেয় এক ছেলে।

দিদিরাই মিলেই ভাইয়ের নাম রেখেছে ‘দিলখুশ’ নামের মধ্যেই ধরা পড়েছে পরিবারের বহু প্রতীক্ষিত আনন্দের আবেগ। পরিবারে এখন খুশির আমেজ। এ উপলক্ষে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান এই দম্পতিকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানা গেছে।

সঞ্জয় কুমার দাবি করেছেন, পুত্রসন্তানের ইচ্ছা থাকলেও তিনি কখনও মেয়েদের অবহেলা করেননি। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মেয়েদের লালন-পালন ও শিক্ষায় কোনও ঘাটতি রাখেননি বলেই তাঁর বক্তব্য। তবে দশ মেয়ের নাম বলতে গিয়ে কিছুটা হোঁচট খান তিনি। সঞ্জয়ের দাবি, এতগুলো সন্তানের নাম সবসময় মনে রাখা তাঁর পক্ষে কঠিন।

এই ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে হরিয়ানার উদ্বেগজনক লিঙ্গ অনুপাতের বিষয়টি। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রতি ১ হাজার পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা মাত্র ৯২৩, যা এখনও জাতীয় গড়ের নিচে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে আইন, সচেতনতা ও প্রচারের পরেও সমাজের একটি বড় অংশে ছেলে সন্তানের প্রতি পক্ষপাত পুরোপুরি দূর হয়নি।

একদিকে দিলখুশের জন্মে পরিবারের আনন্দ, অন্যদিকে সমাজে লিঙ্গসমতার প্রশ্ন হরিয়ানার এই ঘটনা যেন দুটো চিত্রই একসঙ্গে তুলে ধরল।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়