রুপম আচার্য্য
আপডেট: ১০:৪৮, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রঙের নীরব রাজপুত্র ট্রগন
বনজ সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক
ট্রগন পাখির ছবি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার কাজল হাজার।
সবুজ-নীল আলোছায়ার গভীর বনে হঠাৎ চোখে পড়ে এক অপূর্ব রঙিন পাখি চুপচাপ ডালে বসে আছে, যেন রঙের ক্যানভাসে আঁকা কোনো জীবন্ত ছবি। এ পাখির নাম ট্রগন (Trogon)। সৌন্দর্য, রহস্যময় আচরণ ও বিরল উপস্থিতির কারণে পাখিপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে ট্রগন এক বিশেষ আকর্ষণের নাম।
পরিচয় ও বৈজ্ঞানিক অবস্থান
ট্রগন পাখি Trogonidae পরিবারভুক্ত। বিশ্বজুড়ে এই পরিবারের প্রায় ৪০টির বেশি প্রজাতি রয়েছে। এরা মূলত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় বনাঞ্চলে বসবাস করে। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘন বনই এদের প্রধান আবাসস্থল।
বাংলাদেশে ট্রগনের উপস্থিতি খুবই সীমিত ও বিরল। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গভীর বনাঞ্চলে কখনো সখনো এদের দেখা মেলে।
গঠন ও রঙিন সৌন্দর্য
ট্রগনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর রঙের বৈচিত্র্য। সবুজ, নীল, লাল, হলুদ ও কালোর অপূর্ব মিশ্রণে গড়া এ পাখি দেখতে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।
দেহ সাধারণত মাঝারি আকারের
মাথা তুলনামূলক বড়
লেজ চওড়া ও ছক্কাবাঁধা নকশার
চোখে থাকে শান্ত কিন্তু সতর্ক দৃষ্টি
পুরুষ ট্রগন সাধারণত স্ত্রী পাখির তুলনায় বেশি উজ্জ্বল রঙের হয়ে থাকে।
স্বভাব ও আচরণ
ট্রগন অত্যন্ত নীরব ও অলস প্রকৃতির পাখি। এরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই ডালে বসে থাকতে পারে। খুব বেশি ডানা ঝাপটায় না এবং অপ্রয়োজনে উড়েও বেড়ায় না। খাবার ধরার সময় হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসে এই আচরণকে বলা হয় sallying।
খাদ্যাভ্যাস
ট্রগন মূলত ফলভুক ও কীটভুক। এদের খাদ্যের তালিকায় রয়েছে- বিভিন্ন প্রজাতির ফল, গাছের পোকামাকড়, শুঁয়োপোকা, ছোট গিরগিটি বা পোকাভুক কীট (কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে)।
প্রজনন ও বাসা
ট্রগন সাধারণত গাছের গর্তে বাসা বাঁধে। নিজেরা গর্ত খুঁড়ে কিংবা কাঠঠোকরার পরিত্যক্ত গর্ত ব্যবহার করে।
ডিমের সংখ্যা সাধারণত ২-৩টি
বাবা ও মা উভয়েই ডিমে তা দেয়
ছানা বড় না হওয়া পর্যন্ত দুজনেই পরিচর্যা করে
পরিবেশগত গুরুত্ব
ট্রগন বনজ পরিবেশের একটি স্বাস্থ্য নির্দেশক পাখি। এদের উপস্থিতি বোঝায়-
বন এখনও তুলনামূলক অক্ষত
জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ
পরিবেশ ভারসাম্য বজায় আছে
ফল খাওয়ার মাধ্যমে এরা বীজ বিস্তারে সহায়তা করে, যা বন পুনর্জন্মে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হুমকি ও সংরক্ষণ
বিশ্বব্যাপী ট্রগনের জন্য প্রধান হুমকি হলো-
বন উজাড়
আবাসস্থল ধ্বংস
জলবায়ু পরিবর্তন
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এ পাখির তথ্য ও গবেষণা খুবই সীমিত। তাই বন সংরক্ষণ, পাখি পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
শেষ কথা
রঙের নীরব রাজপুত্র ট্রগন প্রকৃতির এক অনন্য শিল্পকর্ম। চোখের আড়ালে থাকা এই সুন্দর পাখি আমাদের বন ও জীববৈচিত্র্যের নীরব বার্তাবাহক। ট্রগনকে বাঁচাতে পারলেই বাঁচবে আমাদের বন, বাঁচবে প্রকৃতির নিঃশব্দ সৌন্দর্য।
ইএন/এসএইচএ
- কেএফসির মালিকের জীবন কাহিনী
- প্রজাপতি: আশ্চর্য এই প্রাণীর সবার ভাগ্যে মিলন জোটে না!
- বিশ্বের অদ্ভুত কিছু গাছের ছবি
- মা-শাশুড়িকে হারিয়েও করোনার যুদ্ধে পিছিয়ে যাননি এই চিকিৎসক
- যেখানে এক কাপ চা পুরো একটি পত্রিকার সমান!
- তিন রঙের পদ্মফুলের দেখা মিলবে এই বিলে
- সোনার দাম এত কেন : কোন দেশের সোনা ভালো?
- রহস্যময় গ্রামটি লাখো পাখির সুইসাইড স্পট
- ২০২৩ সালে পৃথিবীর শক্তিশালী ১০টি দেশ!
- বায়েজিদ বোস্তামি: মাতৃভক্তির এক অনন্য উদাহরণ

























