Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ১৬ জানুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ২ ১৪৩২

রুপম আচার্য্য

প্রকাশিত: ২০:৫১, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য আঁকড়ে রাখার এক আন্তরিক প্রয়াস

শ্রীমঙ্গল শহরের ডাকবাংলো পাড় সুমিত পালের বাসায় বানানো ‘মেরামেরি’ ঘর। ছবি: আই নিউজ

শ্রীমঙ্গল শহরের ডাকবাংলো পাড় সুমিত পালের বাসায় বানানো ‘মেরামেরি’ ঘর। ছবি: আই নিউজ

পৌষ মাস এলেই একসময় গ্রামীণ জনপদে নেমে আসত আলাদা এক ব্যস্ততা ও উৎসবের আমেজ। সংক্রান্তির বেশ কয়েক দিন আগ থেকেই শুরু হতো ‘মেরামেরি’ ঘর বানানোর প্রস্তুতি। হাওর থেকে আনা খড়, বাজার থেকে কেনা মুলি বাঁশ আর রশি যত্ন করে জমিয়ে রাখা হতো সেই বিশেষ দিনের জন্য।

সংক্রান্তির আগের দিন খড়, বাঁশ ও রশি দিয়ে তৈরি হতো ছোট্ট সেই মেরামেরি ঘর। চাঁদা তুলে রাতে ওই ঘরেই হতো রান্না-বান্না। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়া, হাসি-আড্ডা সব মিলিয়ে তৈরি হতো এক অনন্য মিলনমেলা। ভোরে স্নান সেরে মেরামেরি ঘরে আগুন জ্বালিয়ে আগুন পোহানো ছিল সংক্রান্তির দিনের সবচেয়ে চেনা ও আনন্দের দৃশ্য।

সকালে নগর কীর্তনে থাকত বাতাসা, কদমা, কমলা, আপেল, আনারস, নারকেল, কলা, খিড়া, তিলের নাড়ু, মিষ্টি ও নানা ধরনের ফলসহ পূজার নৈবেদ্য। সঙ্গে থাকত ঘোরাঘুরি, বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ, হাসি আর নির্ভেজাল আনন্দ। সব মিলিয়ে সেই সময়টা ছিল এক অনাবিল শৈশবের রঙিন ছবি।

কালের প্রবাহে সময় বদলেছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক লোকজ ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। যদিও এখনও কিছু রীতি টিকে আছে, তবুও কোথাও যেন এক অদৃশ্য শূন্যতা অনুভূত হয়। মনে হয়, যদি কোনো কল্পকাহিনীর টাইম মেশিনে চড়ে একদিনের জন্য হলেও সেই দিনগুলোতে, সেই ছেলেবেলায় ফিরে যাওয়া যেত!

তবে আশার কথা হলো সবকিছু হারিয়ে যায়নি। এখনও কিছু পরিবার হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হয়ে রান্না করে, স্মৃতির আলোয় আবারও পুরোনো দিনগুলোকে ছুঁয়ে দেখার প্রয়াস চালাচ্ছে। সময়কে হয়তো ফিরিয়ে আনা যায় না, কিন্তু ঐতিহ্য আর স্মৃতির আগুনটুকু জ্বালিয়ে রাখাই এখন সময়ের দাবি।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়