ঢাকা, বুধবার   ১৫ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১ ১৪৩৩

রুপম আচার্য্য

প্রকাশিত: ১৮:১১, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বৃক্ষশাখায় নীরব ধ্যান অরণ্যের শান্ত দূত লজ্জাবতী বানর

লজ্জাবতী বানরের ছবি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার ও পরিবেশকর্মী খোকন থৌনাওজাম।

লজ্জাবতী বানরের ছবি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার ও পরিবেশকর্মী খোকন থৌনাওজাম।

সবুজ ঘন বনানীর ভেতরে একটি সরু গাছের কাণ্ড আঁকড়ে বসে আছে এক লাজুক বানর। চোখ দুটি আধো-বন্ধ, যেন প্রকৃতির সুরে ডুবে গভীর ধ্যানে মগ্ন। চারপাশে ঝাপসা সবুজ পাতা আর আলো-ছায়ার খেলায় প্রাণীটির শান্ত অবয়ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছবিটি কেবল একটি বন্যপ্রাণীর প্রতিকৃতি নয় এ যেন অরণ্যের এক নীরব গল্প।

লাজুক অথচ সচেতন
ছবির বানরটি গাছের কাণ্ড জড়িয়ে বসে আছে অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে। এক হাত উঁচু করে শক্ত করে ধরে রেখেছে ডাল, অন্য হাত দিয়ে আলতো করে জড়িয়ে আছে কাণ্ড। শরীরের রঙ ধূসর-বাদামি, মুখে নীলাভ আভা যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। তার এই স্বতন্ত্র চেহারা ও শান্ত স্বভাবের কারণে একে অনেক সময় “লজ্জাবতী বানর” নামেও ডাকা হয়।

প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান
বাংলাদেশের পাহাড়ি ও চা-বাগান ঘেরা অঞ্চলে এ ধরনের বানর দেখা যায়। তারা সাধারণত দলবদ্ধভাবে বসবাস করে এবং গাছেই বেশি সময় কাটায়। ফল, কচি পাতা ও ফুল তাদের প্রধান খাদ্য। বনজ পরিবেশে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বীজ ছড়িয়ে দিয়ে বন পুনর্জন্মে সহায়তা করে।

তবে বন উজাড়, আবাসস্থল সংকোচন এবং মানবসৃষ্ট নানা কারণে এদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের প্রাণী সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি।

নীরব বার্তা
ছবির এই বানরটির চোখে যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তি। ব্যস্ত পৃথিবীর মাঝেও সে যেন বলছে প্রকৃতির কোলে শান্তিই আসল আশ্রয়। মানুষের কোলাহল থেকে দূরে, অরণ্যের গভীরে সে খুঁজে পেয়েছে নিজস্ব এক স্বস্তির জগৎ।

এই একটি ছবিই মনে করিয়ে দেয় বন্যপ্রাণী কেবল দর্শনীয় নয়, তারা আমাদের পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের টিকে থাকা মানেই আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা।

প্রকৃতিকে ভালোবাসি, বন্যপ্রাণী রক্ষা করি এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়