Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ জানুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ৭ ১৪৩২

রুপম আচার্য্য

প্রকাশিত: ১৭:২৩, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

জলাভূমির রঙিন রাজকুমার, এক অনন্য সৌন্দর্যের নাম জলময়ূর

জলময়ূর পাখির ছবি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার ও পরিবেশকর্মী খোকন থৌনাওজাম।

জলময়ূর পাখির ছবি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার ও পরিবেশকর্মী খোকন থৌনাওজাম।

বাংলাদেশের জলাভূমি, হাওর-বাঁওড় ও বিলাঞ্চলের এক অনন্য সৌন্দর্যের নাম জলময়ূর। লম্বা লেজ, ঝকঝকে পালক আর পানির ওপর অনায়াসে হাঁটার দক্ষতায় এই পাখি সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। ইংরেজিতে পরিচিত Pheasant-tailed Jacana নামে, বৈজ্ঞানিক নাম Hydrophasianus chirurgus।

চেনা বৈশিষ্ট্য
জলময়ূরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক এর দীর্ঘ ও সরু লেজ, যা প্রজনন মৌসুমে আরও দীর্ঘ ও চোখে পড়ার মতো হয়ে ওঠে। শরীরের রং সাধারণত সাদা ও কালোর সংমিশ্রণ, মাথা ও ঘাড়ে থাকে চকচকে কালো পালক। চোখের চারপাশে সোনালি বা হলুদাভ আভা এই পাখিকে দেয় আলাদা বৈশিষ্ট্য।

এই পাখির পা ও আঙুল লম্বা হওয়ায় শাপলা, কচুরিপানা বা ভাসমান উদ্ভিদের ওপর খুব সহজেই হাঁটতে পারে, যেন পানির ওপর ভেসে চলছে।

আবাসস্থল ও বিস্তৃতি
জলময়ূর মূলত জলাভূমিনির্ভর পাখি। হাওর, বিল, ঝিল, ধানক্ষেতের জলাভূমি, খাল-বিল ও শান্ত পুকুর এদের পছন্দের আবাসস্থল। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এদের দেখা যায়।

খাদ্যাভ্যাস
জলময়ূরের খাদ্য তালিকায় রয়েছে জলজ পোকামাকড়, ছোট শামুক, কেঁচো, জলজ লার্ভা ও বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ। ভাসমান উদ্ভিদের ওপর হেঁটে হেঁটে খাদ্য সংগ্রহ করে এরা।

প্রজনন ও আচরণ
জলময়ূরের প্রজনন আচরণ বেশ ব্যতিক্রমী। সাধারণত স্ত্রী পাখি তুলনামূলক বড় ও রঙিন হয় এবং একাধিক পুরুষের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারে। ডিমে তা দেওয়ার প্রধান দায়িত্ব পুরুষ পাখির। জলজ উদ্ভিদের ওপর ভাসমান বাসায় ৩-৪টি ডিম পাড়ে জলময়ূর।

সংরক্ষণ অবস্থা
বর্তমানে জলময়ূর আন্তর্জাতিকভাবে Least Concern শ্রেণিভুক্ত হলেও, বাংলাদেশে জলাভূমি দখল, দূষণ ও জলজ উদ্ভিদ ধ্বংসের কারণে এদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। ফলে অনেক এলাকায় আগের মতো নিয়মিত দেখা যায় না এই সুন্দর পাখিটিকে।

প্রকৃতির বার্তা
জলময়ূর শুধু একটি পাখি নয়, এটি আমাদের জলাভূমি পরিবেশের সুস্থতার প্রতীক। এই পাখির টিকে থাকা মানেই জলাভূমির জীববৈচিত্র্য রক্ষা। তাই জলাশয় সংরক্ষণ, শাপলা-কচুরিপানাসহ প্রাকৃতিক উদ্ভিদ রক্ষা এবং পাখি শিকার বন্ধ করাই পারে জলময়ূরের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে।

জলাভূমির জলে ভেসে থাকা এই রঙিন রাজকুমার যেন আমাদের প্রকৃতির সৌন্দর্য হয়ে টিকে থাকে এটাই হোক প্রত্যাশা।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়