রুপম আচার্য্য
প্রকৃতির রঙতুলিতে আঁকা এক জীবন্ত অলংকার ‘বেগুনি গলার রোদপাখি’
বেগুনি গলার রোদপাখির ছবি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার ও পরিবেশকর্মী খোকন থৌনাওজাম।
প্রকৃতির রঙতুলিতে আঁকা এক জীবন্ত অলংকার পার্পল থ্রোটেড সানবার্ড, বাংলায় যাকে অনেক সময় বেগুনি গলার রোদপাখি বলা হয়। সূর্যের আলো পড়লেই যার গলায় ঝলসে ওঠে বেগুনি-নীল ধাতব আভা, সেই পুরুষ পাখিটি যেন মুহূর্তেই নজর কাড়ে যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীর।
পরিচয় ও বৈজ্ঞানিক নাম
এই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Leptocoma sperata। এটি সানবার্ড পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যারা আকারে ছোট হলেও রঙে ও চাঞ্চল্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। Van Hasselt’s Sunbird নামটি মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিস্তৃত উপপ্রজাতিকে নির্দেশ করে।
পুরুষ পাখির রূপ
পুরুষ পার্পল থ্রোটেড সানবার্ডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য তার গভীর বেগুনি বা নীলচে গলা। মাথা ও দেহের ওপরাংশ সাধারণত গাঢ় নীলচে-কালো, সূর্যের আলোয় যা ধাতব চকচকে হয়ে ওঠে। বুক ও পেটের দিকে রঙ অপেক্ষাকৃত হালকা—হলুদাভ বা ধূসর ছোঁয়া থাকে। লম্বাটে বাঁকা ঠোঁটটি ফুলের মধু আহরণের জন্য একেবারে উপযোগী।
আবাসস্থল ও বিস্তৃতি
এই প্রজাতির পাখি সাধারণত পাওয়া যায়- বাংলাদেশ, ভারত (বিশেষ করে পূর্বাঞ্চল), মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশে। বাগান, চা-বাগান, বনপ্রান্ত, গ্রামাঞ্চলের ঝোপঝাড় ও ফুলে ভরা এলাকায় এদের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ে।
খাদ্যাভ্যাস
পার্পল থ্রোটেড সানবার্ড মূলত ফুলের মধু খেয়ে বেঁচে থাকে। তবে মধুর পাশাপাশি ছোট পোকামাকড়, মাকড়সা ও কীটও খায়, যা তাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। ফুল থেকে ফুলে উড়ে বেড়ানোর সময় এরা পরাগায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আচরণ ও স্বভাব
এই পাখিটি অত্যন্ত চঞ্চল ও সক্রিয়। এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকে না। পুরুষ পাখি প্রজনন মৌসুমে বেশ আক্রমণাত্মক ও এলাকা-সচেতন হয়ে ওঠে। নিজের এলাকা রক্ষা করতে অন্য সানবার্ড এমনকি বড় পাখিকেও তাড়া করতে দেখা যায়।
প্রজনন
সাধারণত গাছের ডাল বা ঝোপে সূক্ষ্ম ঘাস, মাকড়সার জাল ও উদ্ভিজ্জ তন্তু দিয়ে ঝুলন্ত থলে আকৃতির বাসা বানায়। বাসা তৈরিতে স্ত্রী পাখির ভূমিকা বেশি হলেও পুরুষ পাখি এলাকা পাহারা দেয়।
সংরক্ষণ অবস্থা
বর্তমানে পার্পল থ্রোটেড সানবার্ড বিপন্ন নয় (IUCN: Least Concern)। তবে বন উজাড়, কীটনাশকের ব্যবহার ও প্রাকৃতিক আবাস ধ্বংস হলে ভবিষ্যতে এদের অস্তিত্ব ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রকৃতির নীরব বার্তাবাহক
আকারে ছোট হলেও এই রোদপাখি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে। ফুলের সঙ্গে তার অবিরাম যাত্রা যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা মানেই নিজের অস্তিত্বকেও সুরক্ষিত করা।
ইএন/এসএইচএ
- কেএফসির মালিকের জীবন কাহিনী
- প্রজাপতি: আশ্চর্য এই প্রাণীর সবার ভাগ্যে মিলন জোটে না!
- বিশ্বের অদ্ভুত কিছু গাছের ছবি
- মা-শাশুড়িকে হারিয়েও করোনার যুদ্ধে পিছিয়ে যাননি এই চিকিৎসক
- যেখানে এক কাপ চা পুরো একটি পত্রিকার সমান!
- তিন রঙের পদ্মফুলের দেখা মিলবে এই বিলে
- সোনার দাম এত কেন : কোন দেশের সোনা ভালো?
- রহস্যময় গ্রামটি লাখো পাখির সুইসাইড স্পট
- ২০২৩ সালে পৃথিবীর শক্তিশালী ১০টি দেশ!
- বায়েজিদ বোস্তামি: মাতৃভক্তির এক অনন্য উদাহরণ

























