রুপম আচার্য্য
হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলার আকাশে পাতি সারস
পাতি সারস পাখির ছবি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার ও পরিবেশকর্মী খোকন থৌনাওজাম।
শীত এলেই বাংলার আকাশে ভেসে ওঠে দীর্ঘ ডানার ছায়া। দল বেঁধে উড়ে আসা সেই রাজকীয় পাখিটি হলো পাতি সারস, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Common Crane। দূর ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এই পরিযায়ী পাখি শীতকাল কাটাতে আসে দক্ষিণ এশিয়ার উষ্ণ অঞ্চলে তার মধ্যে বাংলাদেশও একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল।
চেনার উপায়
পাতি সারস আকারে বেশ বড়, লম্বা পা ও লম্বা গলা বিশিষ্ট পাখি। দেহের রং ধূসর, মাথায় ও চোখের পাশে কালো ও সাদা দাগ স্পষ্ট। প্রাপ্তবয়স্ক পাতি সারসের মাথার ওপরের অংশে লালচে একটি খালি চামড়ার অংশ থাকে, যা সহজেই নজর কাড়ে। উড়ার সময় এদের শিসের মতো ডাক দূর থেকেও শোনা যায়।
আবাস ও চলাচল
এই পাখির মূল আবাস ইউরোপ, রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া ও মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ তৃণভূমি। শীত মৌসুমে তারা দলবেঁধে উড়ে আসে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায়। সাধারণত খোলা মাঠ, জলাভূমি, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত এদের পছন্দের জায়গা।
বাংলাদেশে পাতি সারস খুব বেশি দেখা না গেলেও হাওর অঞ্চল, চরাঞ্চল ও নিরিবিলি জলাভূমিতে শীতকালে কখনো কখনো এদের উপস্থিতি চোখে পড়ে যা পাখিপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আনন্দের।
খাদ্যাভ্যাস
পাতি সারস সর্বভুক। শস্যদানা, ধান, গম, শেকড়, কন্দ, পোকামাকড়, ব্যাঙ, ছোট মাছ সবই এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে। খোলা মাঠে ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে খাবার সংগ্রহ করে এরা।
দলবদ্ধ জীবন ও আচরণ
এই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দলবদ্ধ জীবনযাপন। আকাশে ‘V’ আকৃতিতে উড়ে যাওয়া, একসাথে বিশ্রাম নেওয়া ও খাবার খোঁজার দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। প্রজনন মৌসুমে এদের নাচ ও ডাক বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়, যা পাখিবিশ্বের এক অনন্য রোমান্টিক আচরণ হিসেবে পরিচিত।
সংরক্ষণ ভাবনা
বিশ্বব্যাপী পাতি সারস এখনো মারাত্মক বিপন্ন না হলেও জলাভূমি ধ্বংস, অবৈধ শিকার ও কৃষিজমির অতিরিক্ত ব্যবহার এদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাংলাদেশে এই পাখির সংখ্যা খুবই সীমিত, তাই দেখা পাওয়া মানেই প্রকৃতির জন্য একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা।
প্রকৃতির নীরব বার্তা
শীতের সকালে হাওরের ধারে দলবেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা পাতি সারস যেন আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের কথাই মনে করিয়ে দেয়। অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা মানেই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। পাতি সারসের আগমন আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়।
ইএন/এসএইচএ
- কেএফসির মালিকের জীবন কাহিনী
- প্রজাপতি: আশ্চর্য এই প্রাণীর সবার ভাগ্যে মিলন জোটে না!
- বিশ্বের অদ্ভুত কিছু গাছের ছবি
- মা-শাশুড়িকে হারিয়েও করোনার যুদ্ধে পিছিয়ে যাননি এই চিকিৎসক
- যেখানে এক কাপ চা পুরো একটি পত্রিকার সমান!
- তিন রঙের পদ্মফুলের দেখা মিলবে এই বিলে
- সোনার দাম এত কেন : কোন দেশের সোনা ভালো?
- রহস্যময় গ্রামটি লাখো পাখির সুইসাইড স্পট
- ২০২৩ সালে পৃথিবীর শক্তিশালী ১০টি দেশ!
- বায়েজিদ বোস্তামি: মাতৃভক্তির এক অনন্য উদাহরণ

























