Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, সোমবার   ০২ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ১৮ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:০৫, ২ মার্চ ২০২৬

প্রকৃতির মাঝে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে ‘হলুদ শিমুল’

হলুদ শিমুল। ছবি: আই নিউজ

হলুদ শিমুল। ছবি: আই নিউজ

প্রকৃতি মাঝে মাঝে চমকে দিতে ভালোবাসে। চেনা রঙের ভিড়ে হঠাৎই অচেনা কোনো আভা এসে দাঁড়ায় বিস্ময়ের মতো। তেমনি এক বিরল সৌন্দর্যের দেখা মিলেছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে। সেখানে ফুটেছে দুষ্প্রাপ্য ‘হলুদ শিমুল’।

সম্প্রতি পার্ক এলাকায় প্রবেশের পথ থেকেই নজরে পড়ে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার পাতাঝরা গাছটি। ডালজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য হলুদ ফুল। কোথাও একটি, কোথাও দু-তিনটি, আবার কোনো কোনো ডালে একসঙ্গে অনেকগুলো। সবুজ ও আধফোটা কুঁড়িতেও ভরে আছে গাছটি, যা ফুলের সম্ভাবনায় আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

পার্কের মসজিদ প্রাঙ্গণে রয়েছে নানা প্রজাতির ফুলগাছের সমাহার। রঙে-রূপে, গন্ধে-গুণে তারা যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি দর্শনার্থীদের মনও কাড়ে প্রতিনিয়ত। তবে সবার মাঝেই আলাদা হয়ে চোখে পড়ে এই হলুদ শিমুল গাছটি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ অঞ্চলে সাধারণত লাল বা লাল-হলুদ মিশ্র শিমুল বেশি দেখা যায়। একেবারে হলুদ শিমুল অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য। এমন ফুল আগে এই এলাকায় দেখা যায়নি বলেই জানান তারা।

বিরল এই শিমুল দেখতে প্রতিদিনই পার্কে ভিড় করছেন কৌতূহলী দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ বিস্ময়ে বলছেন ‘শিমুল তো লালই হয়, হলুদও হয় নাকি!’

দর্শনার্থী সবুজ মিয়া বলেন, “শিমুল সব সময় লালই দেখেছি। হলুদ শিমুল নিজের চোখে দেখব ভাবিনি। খুবই ব্যতিক্রম ও সুন্দর লাগছে।”

কলেজ শিক্ষার্থী নাফিজা আক্তার বলেন, “দূর থেকেই গাছটি আলাদা করে চোখে পড়ে। কাছে গিয়ে দেখি ডালে ডালে হলুদ শিমুল ফুটে আছে। ছবি না তুলে থাকা যায় না।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, “প্রকৃতির বৈচিত্র্য কতটা সমৃদ্ধ, এই গাছ তারই উদাহরণ। এ ধরনের বিরল প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ জরুরি।”

পার্কটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তরুণ উদ্যোক্তা জাহেদ আহমেদ চৌধুরী জানান, “দুই বছর আগে সাদা, লাল ও হলুদ শিমুলের চারা লাগিয়েছিলাম। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো হলুদ শিমুল ফুটেছে। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার গাছটি এখন সবার দৃষ্টি কাড়ছে। ভবিষ্যতে পার্কে আরও বিরল ও দুর্লভ ফুলের গাছ লাগানোর ইচ্ছা রয়েছে।”

কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু বলেন, “এ অঞ্চলে হলুদ শিমুলের দেখা মেলে না বললেই চলে। এটি একটি বিরল প্রজাতির ফুল। শীতের শেষে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে ফুল ফোটে। ফুল ফোটার আগে লাল শিমুলের মতোই এর পাতাও ঝরে যায়। গড়ন ও আকৃতিতে লাল শিমুলের মতো হলেও রঙের ভিন্নতায় তৈরি করে আলাদা আবেদন। উজ্জ্বল হলুদ রঙ প্রকৃতিকে দেয় এক অনন্য নান্দনিকতা।”

প্রকৃতির এই ব্যতিক্রমী উপহার দেখতে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে বার্ড পার্কে। হলুদ শিমুল যেন জানান দিচ্ছে প্রকৃতির রঙের ভাণ্ডার এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়