Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ১৮ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ২ মার্চ ২০২৬

বিএনপির কাছে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রত্যাশা চা-শ্রমিকদের

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

দেশের প্রান্তিক ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম বৃহত্তর চা-শ্রমিক সম্প্রদায়। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এ জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্বের জোর দাবি উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কাছে প্রত্যাশা করেন বৃহত্তর চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী।

চা-বাগান অধ্যুষিত অঞ্চলে বসবাসকারী নারী শ্রমিকরা শুধু পরিবার নয়, পুরো অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাতে অবদান রাখলেও, নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, ন্যায্য মজুরি ও নাগরিক অধিকারসহ বিভিন্ন মৌলিক ইস্যু যথাযথভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।

চা-শ্রমিক নেতারা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে যদি বৃহত্তর চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী থেকে একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ নারী নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবে তা হবে এ সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার স্বীকৃতি। এতে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বাস্তব সমস্যাগুলো সংসদে সরাসরি উপস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সচেতন মহলের মতে, সংরক্ষিত নারী আসন কেবল রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয় নয়; এটি হতে পারে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির একটি কার্যকর পদক্ষেপ। চা-শ্রমিক নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে একজন প্রতিনিধির সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চা-শ্রমিক  বলেন, দলটি অতীতে বিভিন্ন সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বৃহত্তর চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর একজন প্রার্থী মনোনীত করে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো উচিত।

চা-বাগান অধ্যুষিত অঞ্চলে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্ব প্রত্যাশার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি সত্যিকার অর্থে তৃণমূলের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায়, তবে সংরক্ষিত নারী আসনে চা-শ্রমিক নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়াই হবে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশে বর্তমানে বড় ও ফাঁড়ি বাগান মিলিয়ে প্রায় ২৪১টি চা-বাগান রয়েছে। এসব বাগানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মরত চা-শ্রমিক ও তাদের পরিবার মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। দেশের চা-শিল্পে তাদের অবদান দীর্ঘদিনের।

এখন দেখার বিষয়, বৃহত্তর চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর এই প্রত্যাশার প্রতি বিএনপি কীভাবে সাড়া দেয়। তাদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, প্রান্তিক এ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে কতটা জোরালোভাবে প্রতিধ্বনিত হবে। দেশের বৃহত্তর চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়