Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ১৬ জানুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ২ ১৪৩২

রুপম আচার্য্য

প্রকাশিত: ২২:৩২, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ২২:৩৫, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

জলধারার নীল রত্ন বামন মাছরাঙা

বামন মাছরাঙা পাখির ছবি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার ও পরিবেশকর্মী খোকন থৌনাওজাম।

বামন মাছরাঙা পাখির ছবি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার ও পরিবেশকর্মী খোকন থৌনাওজাম।

বাংলার নদী, খাল-বিল আর পুকুরপাড়ে কখনো হঠাৎ চোখে পড়ে একফালি নীল ঝলক। ছোট্ট শরীর, তীক্ষ্ণ ঠোঁট, আর বিদ্যুতের গতিতে পানিতে ঝাঁপ এ যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত শিল্পকর্ম। নাম তার বামন মাছরাঙা।

বাংলাদেশে দেখা পাওয়া মাছরাঙা প্রজাতির মধ্যে এটি আকারে সবচেয়ে ছোট। ইংরেজি নাম Common Kingfisher (Alcedo atthis)। দৈর্ঘ্যে মাত্র ১৬-১৭ সেন্টিমিটার হলেও রঙের ঔজ্জ্বল্যে বড় পাখিকেও হার মানায়। মাথা ও পিঠে উজ্জ্বল নীলচে-সবুজ, গলা ও বুক কমলা-বাদামি, আর চোখের পাশ দিয়ে টানা কালো দাগ এই বৈশিষ্ট্যই তাকে সহজে চিনিয়ে দেয়।

বামন মাছরাঙা সাধারণত পরিষ্কার পানির আশপাশেই বাস করতে ভালোবাসে। খাল, বিল, হাওর, নদী কিংবা গ্রামের পুকুর যেখানেই ছোট মাছ ও জলজ পোকা আছে, সেখানেই তার আনাগোনা। ডাল বা বাঁশের কঞ্চিতে বসে একদৃষ্টে পানির দিকে তাকিয়ে থাকে। সুযোগ বুঝে মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে পানিতে, ঠোঁটে তুলে আনে শিকার। এই শিকার ধরার নিখুঁত কৌশল তাকে প্রকৃতির এক দক্ষ জেলে পরিণত করেছে।

প্রজনন মৌসুমে বামন মাছরাঙা নদী বা খালের খাড়া পাড়ে গর্ত করে বাসা বানায়। স্ত্রী পাখি সাধারণত ৫-৭টি ডিম পাড়ে। ডিম ফোটার পর বাবা-মা দু’জনই ছানাদের খাবার জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই সময় তাদের দেখা মেলে আরও বেশি, কারণ ছানাদের ক্ষুধা মেটাতে সারাদিন পানির ধারে ছুটে বেড়ায় তারা।

দুঃখজনক হলেও সত্য, জলাভূমি ধ্বংস, পানিদূষণ ও নির্বিচারে মাছ ধরার কারণে বামন মাছরাঙার স্বাভাবিক আবাসস্থল দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। ফলে অনেক এলাকায় আগের মতো সহজে আর এই পাখির দেখা মেলে না। প্রকৃতির এই নীল রত্নকে টিকিয়ে রাখতে হলে নদী-খাল ও জলাভূমি রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

ছোট্ট শরীর হলেও বামন মাছরাঙা প্রকৃতির সৌন্দর্যে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। পানির ধারে দাঁড়িয়ে হঠাৎ যদি চোখে পড়ে নীল-কমলার সেই ঝলক জেনে নেবেন, প্রকৃতি আপনাকে তার সেরা এক উপহার দেখাচ্ছে।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়