Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, রোববার   ১৮ জানুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ৫ ১৪৩২

রুপম আচার্য্য

প্রকাশিত: ১৯:৩২, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

পাখির প্রতি ভালোবাসায় ক্যামেরা হাতে তরুণ আলোকচিত্রী কাজল

ছবি: তরুণ আলোকচিত্রী কাজল হাজরার ফেসবুক থেকে নেওয়া।

ছবি: তরুণ আলোকচিত্রী কাজল হাজরার ফেসবুক থেকে নেওয়া।

ভোরের নরম আলো যখন পাতার ফাঁক গলে বনভূমিতে নামতে শুরু করে, তখনই ক্যামেরা হাতে নীরবে প্রস্তুত হন কাজল হাজরা। পাখির ডাকে ডাকে তাঁর দিন শুরু, আর এক ক্লিকেই সময়কে বন্দি করে ফেলাই তাঁর নেশা। প্রকৃতি ও পাখির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই বার্ডফটোগ্রাফিতে নিজেকে নিবেদিত করেছেন এই তরুণ আলোকচিত্রী।

কাজল হাজরার ছবিতে পাখি কেবল একটি ফ্রেমের বিষয় নয়, ওগুলো হয়ে ওঠে জীবন্ত গল্প। কখনো উড়াল, কখনো স্থির দৃষ্টির গভীরতা, আবার কখনো নিভৃত প্রকৃতির সঙ্গে পাখির অন্তরঙ্গ সম্পর্ক- সবকিছুই ফুটে ওঠে তাঁর আলোকচিত্রে। দীর্ঘ টেলিফটো লেন্স আর অদম্য ধৈর্য তাঁর নিত্যসঙ্গী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিঃশব্দে অপেক্ষা করে থাকেন কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটির জন্য।

বন, গ্রাম কিংবা জলাভূমি বাংলার নানা প্রান্ত ঘুরে তিনি ক্যামেরাবন্দি করেছেন দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির বিচিত্র জীবন। অনেক সময়ই ঝুঁকি, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা দুর্গম পরিবেশ তাঁকে থামাতে পারেনি। কারণ, কাজল হাজরার কাছে বার্ডফটোগ্রাফি শুধুই শখ নয়, এটি এক ধরনের সাধনা।

তাঁর তোলা ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তরুণদের মধ্যে পাখি ও প্রকৃতি সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরিতেও তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কাজল হাজরার বিশ্বাস পাখিকে ভালোবাসতে হলে আগে তাদের জানতে হবে, আর জানার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো আলোকচিত্র।

বার্ডফটোগ্রাফির মাধ্যমে তিনি শুধু সৌন্দর্যই তুলে ধরছেন না, বরং নিঃশব্দে বলে যাচ্ছেন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা। প্রকৃতি ধ্বংসের এই সময়ে কাজল হাজরার মতো আলোকচিত্রীদের কাজ আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়- পাখিরাও এই পৃথিবীর অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ক্যামেরার লেন্সে বন্দি সেই একেকটি মুহূর্ত যেন ভবিষ্যতের জন্য রেখে যাওয়া প্রকৃতির দলিল। আর সেই দলিল রচনার নীরব কারিগর বার্ডফটোগ্রাফার কাজল হাজরা।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়