Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ২৫ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১১ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:১৫, ২১ নভেম্বর ২০২১
আপডেট: ১৯:৪৪, ২১ নভেম্বর ২০২১

‘বাড়িটি চোরাকারবারির হলে, আমি ও এলাকার নেতৃবৃন্দরাও চোরাকারবারি’

লাইভে ব্যারিস্টার সুমন।

লাইভে ব্যারিস্টার সুমন।

বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়ন কর্তৃক সাম্প্রতিক মাদক ও চোরাকারবারির বাড়ি উল্লেখ করে লোকজনের বাড়িতে টানানো কয়েকটি সাইনবোর্ড টানানো হয়। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে এরকম এক সাইনবোর্ডে একটি বাড়ি তীরচিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করে বিজিবি লিখে দেয় 'চোরাকারবারির বাড়ি'। স্থানটি পরিদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, আমার এলাকা চুনারুঘাটে এ সাইনবোর্ড লাগিয়ে লেখা হয়েছে চোরাকারবাড়ির বাড়ি, সেক্ষেত্রে আমিও চোরাকারবারিদের মধ্যে পড়ি। এ এলাকার নেতৃবৃন্দরাও চোরাকারবারিদের মধ্যে পড়েন, এ বিষয়টি অস্বীকার করার কিছু নেই।

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, কতটা অমানবিক হলে পুরো বাড়িকে চোরাকারবারির বাড়ি বলে চিহ্নিত করা যায়, একজনের অপরাধে পুরো বাড়ির মানুষকে অপরাধী বানিয়ে দেওয়া হয়, একজনের জন্য পুরো বাড়ির মানুষকে সমাজ থেকে আলাদা করা যায়। এ বাড়ির মানুষ এখন স্কুলে যেতে পারছে না, কলেজে যেতে পারছে না- সবাই বলছে এ তুই তো চোরাকারবারির বাড়ির মানুষ।

ব্যারিস্টার সুমন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এমন কাজের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সমাজপতিরা যখন একটি বাড়িকে সমাজচ্যুত করেন তখন আমরা হাইকোর্টে গিয়ে মামলা করি। সমাজপতিরা করলে আমরা ঘৃণা করি। বিজিবির লোকজন কীভাবে একটি পরিবারকে এভাবে সমাজচ্যুত করে দেয়। এই সাইনবোর্ডের মাধ্যমে পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকেও চোরাকারবারি বানিয়ে দিলেন। দেখেন কীভাবে এই ডিসিপ্লিনারি ফোর্স আমাদের দেশটাকে চালাচ্ছে।

যারা এই কাজ করেছে তাদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার সুমন ক্ষোভ নিয়ে বলেন, একটা জিনিস আপনাদের বলতে চাই। চোরাকারবারির বাড়ির সামনে এমন সাইনবোর্ড লাগাতে পারলেন কিন্তু যুদ্ধাপরাধীর বাড়ির সামনে তো লাগাতে পারেন নাই। তারা যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতিবাজের বাড়িতে তো লিখেতে পারেনি তারা দুর্নীতিবাজ। যারা ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে খাচ্ছে তাদের বাড়িতে তো লেখেননি তারা ব্যাংকের টাকা লুটপাটকারী। বিজিবির মধ্যে যাদের দুই নাম্বারি করে চাকরি গেছে তাদের বাড়িতে কেন লেখেননি দুই নাম্বারি করে তাদের চাকরি গেছে। আপনাদের এই সাহস নেই।

এছাড়াও এ ইস্যুতে বিজিবির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সমালোচনা ও অভিযোগ উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে। অনেকেই এতে বলছেন বিজিবি পাচারকাজ না আটকে এসব সাইনবোর্ড লাগানোতে মজে আছে। ব্যারিস্টার সুমনও করেন একই অভিযোগ। তিনি বলেন, বিজিবির কাজ ছিল বর্ডারে। আপনারা বর্ডারে কিছু পাশ দেন বলেই তো এসব পাচার হচ্ছে। অভিযোগ আছে, এই বর্ডার দিয়েই ইন্ডিয়া থেকে আসা প্রতি গরুতে আপনারা দুই হাজার টাকা করে পান। এই টাকা কোথায় যায়, সেটিও আমার জানা আছে। এসব কথা তো বলতে চাই না। এমনিতেই শত্রুর অভাব নাই, তখন আপনারাও শত্রু হবেন।

বিস্তারিত ভিডিওতে

 

ব্যারিস্টার সুমন মর্মাহত কণ্ঠে বলেন, আপনাদের বলতে চাই, অস্ত্র দিয়ে নয়, বিবেক দিয়ে সমাজটাকে ঠিক করেন। আপনারা আমাদের সম্প্রীতিটাকে নষ্ট করছেন, এলাকাটা কলঙ্কিত করে দিচ্ছেন।

বিজিবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান ব্যারিস্টার সুমন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আপনে অনেক জ্ঞানী মানুষ। আপনার আন্ডারের এসব ফোর্সদের বুঝান। তারা যা করে তা ঠিক না। সাইনবোর্ড মেরে এসব নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মানুষগুলোকে বিকল্প কর্মসংস্থান করে দেন।

দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে অনুরোধ জানান ব্যারিস্টার সুমন।

আইনিউজ/এসডি

 

ব্যারিস্টার সুমনের আরও ভিডিও দেখতে-

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মধু মিয়াকে একহাত নিলেন ব্যারিস্টার সুমন

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়