ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬,   চৈত্র ৩১ ১৪৩৩

কামরুল হাসান শাওন

প্রকাশিত: ২৩:৪৭, ১ জুলাই ২০২১
আপডেট: ০০:০৪, ২ জুলাই ২০২১

করোনায় মৃতের লাশ পড়ে রইলো রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সে, স্বজনরাও যাচ্ছেন না পাশে; ড্রাইভারও উধাও

রাস্তার পাশে অ্যাম্বুলেন্সে পড়ে আছে লাশ। পরিবারের কেউ কাছে যাচ্ছেন না। অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারও উধাও; পাওয়া যাচ্ছেনা কাউকে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে সিলেটর উসমানী নগরের সাদীপুর গ্রামে। পরে মৌলভীবাজারের শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ) ইসলামী সোসাইটি (বিআইএস) মৃতের দাফন ও সৎকার টিমের সাহায্য নিয়ে লাশ দাফন করা হয়। 

লাশ গোসল করার জন্য কেউ রাজি হচ্ছেন না। মহিলা লাশ তাই কোন পুরুষ সহযোগিতা করতে পারবেনা। তখন মৃত মহিলার মেয়েকে বুঝিয়ে গোসল করাতে রাজি করা হয়, বাইরে থেকে সহযোগিতা করেন টিমের সদস্যরা। পাওয়া যাচ্ছিলোনা কবর খনন করার মতো কাউকেও। তখন কবর খনন করার অভিজ্ঞ দুজন রাজি করিয়ে দাফন টিমের সহায়তায় সব করা হয়। 

বুধবার (৩০ জুন) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত শোয়া মিয়ার স্ত্রী মোছা. আজিবুন নেছা টুনু সাড়ে ৬টায় সিলেট শামসুদ্দিন হাসপাতালে করোনা ইউনিটে মৃত্যুবরণ করেন। 

জানা যায়, অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ বাড়িতে আনার পর  ড্রাইভারও গাড়িতে লাশ রেখে উধাও হয়ে যায়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা করোনায় মৃত্যুর কারণে তার কাছেও আসতে চাননি। পরে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ) ইসলামী সোসাইটি (বিআইএস) মৌলভীবাজার এর দাফন কাফন ও সৎকার টিমের সাথে। রাত ১০ টা থেকে শুরু করে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলে দাফন। 

সংগঠনের দপ্তর সচিব সিরাজুল হাসান বলেন, মৃতের পরিবার থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করেন। আমি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিবকে জানাই। সংগঠনের দাফন কাফন ও সৎকার টিম প্রস্তুতি গ্রহণ করে রাত ১০টায় টিম নিয়ে সাদীপুর গ্রামে পৌঁছাই। গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে এ্যাম্বুলেন্স এর মধ্যে লাশ পরে আছে। কেউ নেই পাশে, ড্রাইভারও নেই।

দাফনকাজে অংশগ্রহন করেন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ) ইসলামী সোসাইটি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব, টিম লিডার আশরাফুল খান রুহেল, সাংগঠনিক সচিব সোহান হোসাইন হেলাল, টিম মেম্বার মাহবুবুর রহমান খান অপু, ইয়াসিন তালুকদার, সিরাজুল ইসলাম, আমির হোসেন, নাঈম তালুকদার, কামরান আহমেদ চৌধুরী, তিতুমীর আহমেদ, রাফি খান।

শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ) ইসলামী সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, রাস্তায় পড়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স থেকে লাশ নিয়ে কাঁচা রাস্তা দিয়ে লাশ বাড়িতে নিয়ে যাই। রাস্তায় পানি আর কাদা একাকার ছিলো, কারণ এবছরের মধ্যে আমাদের এলাকায় গতকালকেই  সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। দাফন কাফনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভিজে সংগঠনের কর্মীরা কাজ করেন। লাশ বাড়িতে নিয়ে দেখা যায় গোসল করানোর মত কোনো মহিলা পাওয়া যাচ্ছে না। তখন তার মেয়েকে বুঝিয়ে রাজি করি। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের সদস্যদের সহযোগিতায় কবর খনন করা হয়, কিন্তু দুঃখের বিষয় করবের নিচ থেকে উঠতে থাকে শুধু পানি আর পানি। রাত ২ টায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কে জানাজার নামাজ পড়ে কোনো রকম বালতি দিয়ে পানি সরিয়ে আজিবুন নেছা টুনু-কে তার জীবনের প্রিয় আদর এবং ভালোবাসার মানুষগুলোর অনুপস্থিতিতেই শুধু ছেলেবিহীন তিন মেয়ে'র ঘরের ছোট ছোট নাতীদের উপস্থিতিতে তাকে স্থায়ী নিদ্রায় শায়িত করা হয়। 

আইনিউজ/কামরুল হাসান শাওন/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়