ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ১২:৩৯, ৩ জুলাই ২০২১
আপডেট: ১৬:০৪, ৩ জুলাই ২০২১

বর্ষার এই সময়ে মৌলভীবাজারের নদনদীর পানির তথ্য

মৌলভীবাজার শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মনু নদী।

মৌলভীবাজার শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মনু নদী।

চলছে ভর বর্ষা মৌসুম। টানা বৃষ্টিপাতে বাড়ছে কী মৌলভীবাজারের মনু, ধলাই, কুশিয়ারা নদনদীর পানি? 

এই সময়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে বাড়তে থাকে নদনদী ও হাওরের পানি। মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে ভাসিয়ে দেয় জনবসতি, শহর-গ্রাম। তাই এই সময়ে টানা বর্ষণ দেখলেই প্রাণ আতকে ওঠে। শংকা জাগে আবার বন্যা আসছেনা তো!

আজ শনিবার (৩ জুলাই) মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রাপ্ত মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর পানির স্তরের সর্বশেষ তথ্য আইনিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর হিসাবমতে মনু নদীর রেলওয়ে ব্রিজ এলাকায় বিপৎসীমা ১৭ দশমিক ৫৫ মিটার। আজ সকাল ৯টার রেকর্ড অনুযায়ী পানির বর্তমান লেভেল বা স্তর ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৪ দশমিক ০৫ মিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি প্রবাহ কমতির দিকে। 

মনু নদীর চাঁদনীঘাট ব্রিজ এলাকায় বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৩০ মিটার। শনিবার (৩ জুলাই) সকাল ৯টার রেকর্ড অনুযায়ী পানির বর্তমান লেভেল বা স্তর ৭ দশমিক ২০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৪ দশমিক ১ মিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি প্রবাহ কমতির দিকে।  

ধলাই নদীর রেলওয়ে ব্রিজ এলাকায় বিপৎসীমা ১৯ দশমিক ৩৫ মিটার। আজ সকাল ৯টার রেকর্ড অনুযায়ী পানির বর্তমান লেভেল বা স্তর ১৬ দশমিক ১৭ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৩ দশমিক ১৮ মিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি প্রবাহ কমতির দিকে।  

কুশিয়ারা নদীর শেরপুর এলাকায় বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৫৫ মিটার। আজ সকাল ৯টার রেকর্ড অনুযায়ী পানির বর্তমান লেভেল বা স্তর ৬ দশমিক ৯০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ১ দশমিক ৬৫ মিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারায় পানি প্রবাহ বাড়তির দিকে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান আইনিউজকে বলেন, এই মুহুর্তে বন্যার শংকা খুবই ক্ষীণ। যদিও উজানে ভারতে ত্রিপুরা ও কৈলাশহরে বৃষ্টি হচ্ছে। 

তিনি বলেন, অনেক আগে থেকে আমরা বন্যার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এরইমধ্যে এলটিএম ইজিপি পদ্ধতিতে ঠিকাদার নিয়োগ করা আছে। মনু ও ধলাই নদীর ২৭টি দুর্বল পয়েন্টে বাঁধ মেরামাত কাজ চলমান আছে। এছাড়াও ১০ হাজার জিও ব্যাগ এবং ১০ হাজার সিনথেটিক ব্যাগ মজুদ করা আছে। কোথাও কোনো দুর্বল পয়েন্ট থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

নির্বাহি প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান জানান, ৯৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মনু নদী প্রকল্পে বিভিন্ন কাজ চলছে। এটা সম্পন্ন হলে মনু নদীতে আর ভাঙ্গণ দেখা দেবে না। বন্যার শংকাও থাকবেনা। এছাড়া ধলাই নদীর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বড় একটা প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। 

এই মুহুর্তে মনু ও ধলাই নদীর  কোথাও কোনো ভাঙ্গণের শংকা বা পুরনো ভাঙ্গণ বা দুর্বল পয়েন্ট থাকলে সেটা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানাতে বললেন আক্তারুজ্জামান।

আইনিউজ/এইচকে/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়