ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬,   চৈত্র ৩১ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:০২, ১০ জুলাই ২০২১
আপডেট: ১৯:১৭, ১০ জুলাই ২০২১

ঘর নির্মাণ যাচাইয়ে মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টিম

দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা দ্রুত সংস্কার বা প্রয়োজনে পুনঃনির্মাণ করে দেয়া হবে। আর সর্ববৃহৎ এ পুনর্বাসন কাজ বাস্তবায়নে ন্যূনতম অবহেলা বা অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। দেশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। 

প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম যাচাইয়ে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক টিম। তাদেরকে জেলা, উপজেলায় নির্মিত বাড়িগুলোর নির্মাণশৈলী ও গুণগত মান, অনুমোদিত ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার (১০ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজারের চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের সৈয়ারপুর (মাইজপাড়া) এলাকায় নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪০টি ঘর পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টিম। এর আগে সিলেটের বিশ্বনাথ এলাকায় এবং পরে শ্রীমঙ্গলের মাইজদিহি এবং হবিগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করে এ টিম।

পরিদর্শনকালে ঘর নির্মাণে মৌলভীবাজারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা। তবে জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। 

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রযণ প্রকল্পের কোন কোন এলাকায় গাফিলতি, দুর্নীতি ও নতুন ভরাট করা মাটিতে ঘর নির্মাণের কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশকিছু ঘরে ফাটল দেয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে মাঠে নেমেছেন প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সারাদেশে পাঁচটি টিম একযোগে সেসব অভিযোগ ও সংস্কার কাজ পরিদর্শন করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার মৌলভীবাজারে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর উপ-পরিচালক জাহেদুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই-আলমের নেতৃত্বে একটি টিম আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন।   
এ সময় তারা মৌলভীবাজার শহরের মাইজপাড়া এলাকায় মনুনদের তীরে এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাইজদিহি এলাকায় সবুজ পাহাড়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পরিদর্শন করেন।  

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান বলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি টিম মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মাইজগাঁও এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে আমাদের ঘরগুলোতে কোনো সমস্যা পাননি। পরিদর্শন শেষে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন পানি-বিদ্যুৎ সংযোগ উপকারভোগীদের সাথে আলাপ করে সমাধান করার জন্য। পাশাপাশি প্রত্যেকটা আশ্রয়কেন্দ্রে কোন সমস্যা থাকলে দ্রুত সমাধান করে নিতে।

প্রকল্প পরিদর্শন শেষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর উপ-পরিচালক জাহেদুর রহমান বলেন, দেশব্যাপী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হলে দ্রুত সংস্কার বা প্রয়োজনে পুনঃনির্মাণ করে দেয়া হবে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। যেসব জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলো ঠিক করা হয়েছে। তবে জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর অবস্থা ভালো।

জাহেদুর রহমান বলেন দেশের নীচু এলাকায়, যেমন জামালপুর ও বগুড়ায় সমস্যা বেশি মনে হয়েছে। তবে উঁচু এলাকার নির্মিত ঘরগুলোর অবস্থা ভালো। সেসব জায়গার সমস্যা নজরে আসেনি।

তিনি বলেন, কেস-টু-কেস প্রত্যেক সমস্যার সমাধান করে দেওয়া হবে।  

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দুই ধাপে মৌলভীবাজার জেলায় ২ হাজার ৩ শত ৭৭ জন গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষকে ঘর দেয়া হয়েছে। সৈয়ারপুরের মাইজপাড়ায় মোট ৪০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়