ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬,   চৈত্র ৩১ ১৪৩৩

রুহুল ইসলাম হৃদয়, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৫৭, ১২ জুলাই ২০২১
আপডেট: ২১:০৬, ১২ জুলাই ২০২১

কমলগঞ্জে এবার ঈদে ব্যস্ততা নেই কামারশালায়!

সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও এ বছর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ব্যস্ততা নেই কামারশালায়।

প্রতি বছর ঈদুল আজহা আসলে কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য চাকু-দা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটালেও লকডাউনের কারণে কামারদের দিন কাটছে কর্মহীন। সোমবার উপজেলার ভানুগাছ, শমসেরনগর, মুন্সীবাজার, আদমপুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

অন্যান্য বছর ঈদুল আজহার দু-তিন সপ্তাহ আগে থেকেই দম ফেলার সময় থাকতো না কামারদের। কামারশালাগুলোতে চলতো দিন-রাত কাজ। চাপড়, দা, বটি-ছুরি তৈরি, বিক্রি ও শাণ দিতে দিতেই দিনরাত একাকার হয়ে যেতো তাদের। কিন্তু এবার করোনা মহামারী উল্টে দিয়েছে তাদের চিরায়ত অবস্থা।

কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজারের কামার দিলিপ বলেন, এই পেশা আমার বাপ দাদার থেকে পেয়েছি। প্রতি কোরবানি ঈদের এক মাস পূর্ব থেকে ছুরি- চাকু বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু তৈরি করে রাখা ছুরি-চাকু তেমন বিক্রি হচ্ছে না। তারপরও আমরা বসে নেই। বসে থাকলে তো চলবে না।

আদমপুরের নতুন কামারি সবুজ জানালেন, পুরো বছরের মূল রোজগার হয় এই কোরবানি ঈদে। কিন্তু গত ঈদ থেকে ছুরি-চাকু বিক্রি নেই বললেই চলে। তবুও বিক্রির আশায় ঘুম নষ্ট করে জিনিসপত্র তৈরি করে রাখছি। তাছাড়া বর্তমানে ভালমানের লোহা পাওয়া কঠিন। লোহার দরও বেড়েছে। সেই তুলনায় জিনিস বিক্রি করা কঠিন হচ্ছে। যাই হোক আশা ছাড়ছি না। ঈদের এক সপ্তাহ পূর্ব থেকে বিক্রি শুরু হতে পারে বলে আশাবাদী।

কমলগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্ধা মোস্তাফিজুর রহমান, সালাহউদ্দিন শুভ, আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘করোনার কারণে এ বছর কোরবানি দেয়ার কোনো প্রস্তুতি নেননি তারা। এমনিতেই করোনায় সংসার চালাতে হিমশীম খেতে হচ্ছে তাদের। এ বছর কোরবানি দিলে পুরাতন দা-ছুরিই ব্যবহার করবেন।’

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়