ঢাকা, শনিবার   ০৯ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৬ ১৪৩৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৩৭, ৬ জানুয়ারি ২০২২

মৌলভীবাজারে সাতদিনব্যাপী নাট্যোৎসবের যবনিকাপাত

নাট্যোৎসবের সমাপনী দিনে উৎসব স্মারক তোলে দেন অতিথিরা। ছবি : রনজিত জনি

নাট্যোৎসবের সমাপনী দিনে উৎসব স্মারক তোলে দেন অতিথিরা। ছবি : রনজিত জনি

সাঙ্গ হলো উৎসব। টানা সাতদিন যেন মৌলভীবাজারের দর্শকেরা নাটকে বুদ হয়েছিলেন। অবশেষে যবনিকাপাত ঘটলো মহাযজ্ঞের। উৎসবে পরিণত হয়েছিলো সাইফুর রহমান অডিটোরিয়াম। নাটকপ্রিয় মানুষদের নিয়মিত রুটিনে পরিণত হয় উৎসব প্রাঙ্গণ।

‘হোক কলরব, আজ বিজয় মহোৎসব’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো সাতদিনব্যাপী নাট্য উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশের জনপ্রিয় নাট্যদলগুলো নাটক মঞ্চায়ন করে।

মূলত সংস্কৃতির মানুষ ও মঞ্চাভিনেতা জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এ আয়োজনের সারথি।   

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ট্র্যাজেডি, কিংবা মুক্তিযুদ্ধে এক অকুতোভয় যুবকের বীরত্বগাঁথা, কিংবা হাওরাঞ্চলের ‘কইন্যা পীর’-এর কাহিনী। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং অন্ধতার বিরুদ্ধে আলোর যাত্রা- উপজীব্য্ নিয়ে টানা সাতদিন মঞ্চায়ন হয় নাট্য উৎসব। ঢাকার ছয়টি এবং হবিগঞ্জের একটি নাট্য সংগঠন নাটক মঞ্চায়ন করে। 

নাট্যোৎসবের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন এক সময়ের আরেক মঞ্চাভিনেতা, জেলা আওয়মী লীগ সভাপতি  নেছার আহমদ এমপি। সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানের আয়োজক জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন মাসুদের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নাট্যোৎসবের আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানিয়া সুলতানা।

অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।  

মৌলভীবাজারে নাট্যেৎসবের সবচেয়ে বড় আয়োজন

মৌলভীবাজারের ইতিহাসে নাট্যোৎসবের এতোবড় এই আয়োজনকে সংস্কৃতিজন এবং তরুণ প্রজন্ম দেখছেন নিজেদের সমৃদ্ধ করার পাঠ হিসেবে। 

শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক প্রদীপ নাহা বলেন, ‘মৌলভীবাজারে নাট্যেৎসবের এতো্ বড় আয়োজন এর আগে দেখিনি। এই উৎসব আমাদের জন্য, নতুন প্রজন্মের জন্য একটা কর্মশালার মতো ছিলো।’

নাট্যকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোহিত টুটু বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মধ্যে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক চর্চা ছড়িয়ে দিতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।’
নৃত্য শিল্পী ও সংগঠক নাজিয়া চৌধুরী টুনি বলেন, ‘এ যেন প্রাণের উৎসব, শেখার জায়গা। এরকম আয়োজন বেশি বেশি হওয়ার দরকার। বড় আয়োজনে, বড় প্লাটফর্ম থেকে অনেক কিছুই শেখা যায়।’

সাতদিনে মঞ্চায়ন হয় সাতটি নাটক

৩১ ডিসেম্বর উদ্বোধনী দিনে ঢাকার ‘মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়’ মঞ্চায়ন করে বঙ্গবন্ধু হত্যা নিয়ে ইতিহাস নির্ভর নাটক ‘শ্রাবণ ট্রাজেডি’।
১ জানুয়ারি ঢাকার লোক নাট্যদল পরিবেশন করে হাস্যরসাত্মক নাটক ‘কঞ্জুস’।
২ জানুয়ারি প্রাচ্যনাট, ঢাকা মঞ্চস্থ করে নাটক ‘কইন্যা’। 
৩ জানুয়ারি হবিগঞ্জের জীবন সংকেত মঞ্চস্থ করে অকুতোভয় তরুণ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতিকে নিয়ে নাটক ‘জ্যোতিসংহিতা’। 
৪ জানুয়ারি প্রাঙ্গণেমোর মঞ্চায়ন করে ‘হাছন জানের রাজা’। 
৫ জানুয়ারি শব্দ নাট্যচর্চা মঞ্চস্থ করে ‘চম্পাবতী’। শেষ দিন ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ থিয়েটার, ঢাকা মঞ্চস্থ করে ‘অভিশপ্ত আগস্ট’।

আরও পড়ুন : মৌলভীবাজারে মুগ্ধতা ছড়ালো ফরাসি নাটক ‘কঞ্জুস’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্থির চিত্র প্রদর্শনী এবং বইমেলা ছিলো সাতদিনের আয়োজন। ছিলো লোকজন গানসহ নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

মার্চে আবারো হবে নাট্যেৎসব

উৎসবের আয়োজক জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এ আলো ছড়িয়ে দিতে চান নতুন প্রজন্মের মাঝে। জেলা প্রশাসক জানান, আগামী মার্চে সিলেট বিভাগের নাট্য সংগঠনদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে আরও একটি নাট্যেৎসব।

আই নিউজ ভিডিও

মৌলভীবাজারে সাতদিনব্যাপী নাট্য উৎসব

গ্রিসের বস্তিতে বাংলাদেশীদের মানবেতর জীবন, অধিকাংশই সিলেটি

ঘোড়দৌড় : সিলেট বিভাগের সব তেজি ঘোড়া এসেছিল এই মাঠে

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ