Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, সোমবার   ০২ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ১৮ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ১৭:২৭, ১২ অক্টোবর ২০২৩
আপডেট: ২২:৫৪, ১২ অক্টোবর ২০২৩

পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে মৌলভীবাজারে বিশেষ সভা 

ছবি- আই নিউজ

ছবি- আই নিউজ

পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মৌলভীবাজারে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার বাজারগুলোতে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি কীভাবে সহনীয় মাত্রায় রাখা যায় এ ব্যাপারে আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা 

আজ বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সবসময় বাজার তদারকি করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালামের সভাপতিত্বে জেলা পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স সভাপতি, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন থানার ওসি, সাধারণ ভোক্তা প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা এ সভায় অংশগ্রহণ করেন। 

উন্মুক্ত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর জেলা প্রতিনিধি ও আই নিউজের সম্পাদক হাসানাত কামাল বলেন, মৌলভীবাজারে প্রতি হালি খামারের মুরগির ডিমের দাম ৫৫ টাকা, হাসের ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা দরে। দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। যা সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঠিক করে দেওয়া মূল্য থেকে অনেক বেশি। তাছাড়া, বাজারে দোকানে পণ্যমূল্য তালিকা টানানো নেই।

মৌলভীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর ফয়ছল আহমদ বলেন, দোকান ভাড়া বেশি, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এইসব ক্ষেত্রেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে বাজারেও। একারণে বাজারে পণ্য বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। 

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম সর্দার বলেন, বাজারে অভিযানে গেলে ব্যবসায়ীরা প্রায়শই পণ্য ক্রয়ের রশিদ দেখাতে পারেন না। 

কমলগঞ্জ থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, বাজার মনিটরিং দরকার। অভিযান শেষে ফিরলে আবার আগের মতো হয়ে যায়। এটা বণিক সমিতিকে মনিটর করতে হবে।

কুলাউড়া থানার ওসি আব্দুস ছালেক বলেন, বাজারকে যখন রাজস্ব খাতে নিয়ে যায়। লিজ দেওয়া হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া হারে টোল নেয়। সিলেটের বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার নিয়ন্ত্রণ হয় শ্রীমঙ্গল থেকে। তাই শ্রীমঙ্গলকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে পুরো সিলেট বিভাগে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ থাকবে।  

ভোক্তার সহকারি পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা মাসে পনেরোটির মতো অভিযান পরিচালনা করি। ঢাকায় পণ্যমূল্য বৃদ্ধি থাকলে মৌলভীবাজারের ক্রেতারাও দামে বিক্রি করতে চায়।  

ভোক্তার প্রতিনিধি ডা. জিল্লুল হক বলেন, বাজারে আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। 

শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করে দেন ঢাকাতেই সেই দামের থেকে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করা হয়। এর প্রভাব শ্রীমঙ্গলের পাইকারি বাজারে পড়ে। শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করে। আমরা আশা করি তাঁদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে যেন কেউ চড়া দামে পণ্য বিক্রি না করে তা নিশ্চিত করা যাবে। সর্বনিম্ন লাভে যেন তারা পণ্য বিক্রি করেন সে ব্যাপারেও আমরা কাজ করবো। 

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, বাজারে অভিযানে গেলে দেখা যায় দোকানে পণ্যের মূল্য তালিকা নেই।  

সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ীরা ভালো। তারা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করেন না। বেশি দামে পণ্য কিনে আনলে তখন বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। ঢাকার বাজার নিয়ন্ত্রণ হলেই মৌলভীবাজারের বাজারে পণ্যমূল্য সহনশীল মাত্রায় চলে আসবে।

সভায় মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মঞ্জুর রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তবে, হঠাৎ করে কোনো পণ্যের মূল্য বেড়ে গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে অন্যরা দাম বাড়িয়ে দেয়। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। 

জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম বলেন, প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে অবশ্যই পণ্য ক্রয়ের রশিদ দেখাতে হবে। নিয়মিত বাজার মনিটর করা হবে। অস্বাভাবিক দামে বাজারে পণ্য বিক্রি করা যাবে। এ ব্যাপারে মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করবে। ব্যবসায়ীদেরকে বুঝিয়ে পণ্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে উদ্বুদ্ধ করা হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হবে 

সভায় একটি বাজার মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে থাকবেন জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, ইউএনও, ওসি, ভোক্তার সহকারি পরিচালক, বণিক সমিতির প্রতিনিধি। এই কমিটি প্রতি সপ্তাহে দুই দিন বাজার মনিটরিং করবে বলে সভায় জানানো হয়।  

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়