Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ২৫ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১১ ১৪৩২

বিকাশ বিশ্বাস, শ্রীমঙ্গল

প্রকাশিত: ১৭:৫৪, ২৫ মার্চ ২০২৬

মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ, বাসন্তী পূজায় আনন্দে মেতেছে ভক্তরা

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বাসন্তী পূজা। প্রতি বছরের মতো চৈত্র মাসের এই ঐতিহ্যবাহী পূজা সনাতনী ভক্তদের মাঝে নিয়ে এসেছে ধর্মীয় আবহ, ভক্তি আর আনন্দের অনন্য সমাবেশ। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে উৎসবের আমেজ, ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বাসন্তী পূজোর আয়োজন।

উপজেলায় ব্যক্তিগত ও সার্বজনীন মিলিয়ে প্রায় ৫০টি পূজা মণ্ডপে বাসন্তী পূজা উদযাপিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য মণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী বাড়ি, পৌর শ্মশানঘাট, নির্মাই শিববাড়ি, রূপসপুর আবাসিক এলাকার বিভিন্ন মণ্ডপ, দেববাড়ি, সবুজবাগ শ্মশানঘাট, উত্তসুর, গন্ধর্বপুর এবং সন্ধানী আবাসিক এলাকা।

পূজা দেখতে আসা সঙ্গীতা চৌধুরী সুচি বলেন, “আমরা প্রতি বছর এই পূজার জন্য অপেক্ষা করি। বন্ধুবান্ধব, বড় ভাই ও ছোট বোন- সবাই মিলে পূজা দেখতে বের হয়েছি। পড়াশোনার কারণে আমরা বছরের বেশিরভাগ সময় একেকজন একেক জায়গায় থাকি। কিন্তু পূজা এলেই সবাই একত্রিত হতে পারি। একসঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে সময় কাটাই। এই পূজার আনন্দ মিস করার মতো নয়। খুব ভালো লাগছে, সবাই মিলে পূজা উপভোগ করছি।”

প্রযুক্তা ভট্টাচার্য বলেন, “আজ সপ্তমীর পূজায় আমরা সবাই মিলে মায়ের কাছে অঞ্জলি দিয়েছি। বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন সবাই এসেছেন। সবার সঙ্গে দেখা হয়েছে, অনেক আনন্দ করেছি। এখন বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। আসলে পূজা মানেই অন্যরকম অনুভূতি- পূজা এলেই সবাই একসঙ্গে বের হই, খাওয়া-দাওয়া করি। বাসন্তী পূজা হলেও আনন্দটা একদম দুর্গাপূজার মতোই মনে হচ্ছে।”

উল্লাস দেবনাথ বলেন, “শুনেছি বাসন্তী পূজা সনাতন ধর্মের অন্যতম প্রাচীন পূজা। যদিও শারদীয় দুর্গাপূজার আড়ালে এটি অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে। সেভাবে জাঁকজমক বা সর্বব্যাপী আয়োজন না থাকলেও বাসন্তী পূজার ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। জানা যায়, রাজা সুরথই এই পূজার সূচনা করেছিলেন।”

শ্রীমঙ্গল পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ দাশ চৌধুরী জানান, “প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাসন্তী পূজা উদযাপিত হচ্ছে। সপ্তমী পূজার সকাল থেকেই মণ্ডপগুলো ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণে দেবী দুর্গার আবাহন করা হয় এবং ভক্তরা ভক্তিভরে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন।”

পুরোহিত লিটন ভট্টাচার্য জানান, “২৪ মার্চ মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ পূজা ২৫ মার্চ মহাসপ্তমী থেকে ধারাবাহিকভাবে অষ্টমী ও নবমী পূজার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে। আগামী ২৮ মার্চ শনিবার পুষ্পাঞ্জলি ও প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার সমাপ্তি ঘটবে।”

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শরৎকালে অনুষ্ঠিত শারদীয় দুর্গাপূজার মতোই চৈত্র মাসে বসন্তকালে পালিত হয় বাসন্তী দুর্গাপূজা। যদিও সময়ের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার জৌলুস বেড়েছে, তবুও বাসন্তী পূজাকেই আদি দুর্গাপূজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম এ পূজার প্রচলন করেন। পরবর্তীতে ভগবান রাম শরৎকালে অকালবোধনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার প্রচলন করেন।

সব মিলিয়ে, শ্রীমঙ্গলে বাসন্তী পূজাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ, যা ভক্তদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি ও ধর্মীয় আবেগের এক অপূর্ব অনুভূতি।

ইএন/এসএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়