Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ২৫ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১১ ১৪৩২

ইমরান আল মামুন

প্রকাশিত: ০৭:৪৩, ২৫ মার্চ ২০২৬

নবীন পাঞ্জাবি ব্যবসা বন্ধ, বিদেশে যাচ্ছেন নবীন

বাংলাদেশের জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড নবীন পাঞ্জাবি ঘিরে নতুন এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ব্যবসা বন্ধ করে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। বিষয়টি মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি আবেগঘন ভাষায় লিখেছেন, তিনি সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চান, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তাই বাধ্য হয়েই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে আবার দেশে ফিরে আসার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

বাজার সিন্ডিকেটের অভিযোগ

একই দিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনামুল হাসান নবীন বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী পোশাকের দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, পাঞ্জাবি ৪ হাজার ৫০০ টাকার নিচে এবং পাজামা ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে বিক্রি করা যাবে না।

তিনি জানান, তাদের ব্যবসার মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ ক্রেতাদের কাছে সাশ্রয়ী দামে ভালো মানের পণ্য পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু এই উদ্যোগই তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করায় তারা চাপের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

এনামুল হাসান আরও বলেন, তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তাদের সব শোরুম বন্ধ করে দেওয়া হবে যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সরিয়ে না ফেলা হয়।

তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি তাদের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়নি। বরং একজন ক্রেতা ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন, যা পরে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ভিডিও ঘিরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সামাজিক উদ্যোগের কথাও জানালেন

নবীন পাঞ্জাবি শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেও কাজ করে বলে জানান এনামুল হাসান। তিনি বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে একটি অংশ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য ব্যয় করা হয়।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং পুনর্বাসিত কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কম দামে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা ছিল তাদের।

সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না। বরং বড় ব্যবসায়ীরা বেশি সুবিধা পেয়ে থাকেন। ফলে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে চাওয়া উদ্যোক্তারা নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন।

এই পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেটের চাপ ও হয়রানির কারণে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করছেন। তাই সবকিছু গুটিয়ে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ

এর আগে ঈদুল ফিতরের আগে ২০ মার্চ রাজধানীর মগবাজার এলাকায় নবীন পাঞ্জাবি-র একটি শোরুম জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় আশপাশের কিছু ব্যবসায়ী অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরে পুলিশের সহায়তায় দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে?

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

নবীন পাঞ্জাবি-র এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নয়, বরং দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কেও নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়